Skype last date: সময়ের সাথে পরিবর্তন আসে প্রযুক্তির দুনিয়ায়। বদলে যায় পুরোনো প্রযুক্তি। তার জায়গা নিয়ে আসে নতুন এক প্রযুক্তি। একটা সময় ছিল যখন ভিডিও কলিং করা মানেই ছিল Skype। অফিসের মিটিং হোক বা প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা, Skype-ই ছিল ভরসা। কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে যোগাযোগের ধরণ। প্রযুক্তির সেই পালাবদলের সঙ্গেই আজ সোমবার, 5 মে থেকে চিরতরে শেষ হচ্ছে স্কাইপের পথচলা।
Skype last date: বন্ধ হচ্ছে স্কাইপ
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরলস পরিষেবা দিয়েছে Skype। এবার সেই Skype বন্ধ করে দিচ্ছে মাইক্রোসফট সংস্থা। ঘোষণা হয়েছিল আগেই, ফেব্রুয়ারিতে। সংস্থার ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে এই পরিষেবা। ধাপে ধাপে বন্ধ করা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফট তাঁর ব্লগে লিখেছিল ‘আমরা ২০২৫ সালের মে মাসে স্কাইপ বন্ধ করে দেব এবং আমাদের আধুনিক যোগাযোগ এবং সহযোগিতা কেন্দ্র, মাইক্রোসফট টিমস (বিনামূল্যে) এর উপর মনোযোগ দেব।’
Skype last date: স্কাইপের জনপ্রিয়তা
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে স্কাইপের যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় ভিডিও কলিং ছিল যোগাযোগ মাধ্যমের জগতে এক বিপ্লব। ধীরগতির ইন্টারনেটে স্পষ্ট কণ্ঠস্বর আর দূরে থাকা চেনা মানুষকে মুখোমুখি বসিয়ে কথা বলার সুবিধা এনে দিয়েছিল স্কাইপ। খুব অল্প সময়েই বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ তা ব্যবহার করতে শুরু করেন।
২০১১ সালে প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলারে স্কাইপ কিনে নেয় মাইক্রোসফট। এরপরও জনপ্রিয়তা কমেনি তার। বরং আরও বিস্তৃত হয় তার ব্যবহার। তবে এরপর থেকে ধীরে ধীরে বাজারে আসতে থাকে আরও স্মার্ট অ্যাপস – হোয়াটসঅ্যাপ, জুম, গুগল মিট, ফেসবুক ভিডিও কলিং প্রভৃতি। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারেনি স্কাইপ।
Skype last date: স্কাইপের বিকল্প হিসাবে সংস্থা কি বলছে?

মাইক্রোসফট নিজেও স্কাইপের বিকল্প হিসেবে নিয়ে আসে ‘টিমস’। কর্পোরেট জগতে সেটাই এখন হয়ে উঠেছে নতুন ভরসা। ফলে স্কাইপের প্রয়োজনও ফুরিয়ে আসে। কমতে থাকে ব্যবহারকারীর সংখ্যা। শেষমেশ সিদ্ধান্ত নিতে হয় সংস্থাকে।
Microsoft Teams log in: কিভাবে করবেন?
মাইক্রোসফট তাঁদের সাপোর্ট প্লাটফর্মে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘স্কাইপ ব্যবহারকারীরা এখন চাইলে মাইক্রোসফট টিমস ফ্রি সংস্করণে চলে যেতে পারবেন। মাইক্রোসফট টিমসে স্কাইপের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার ছাড়াও অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। আপনি যেকোনো সমর্থিত ডিভাইসে স্কাইপের লগইন তথ্য ব্যবহার করে মাইক্রোসফট টিমসে সাইন ইন করলেই আপনার কনট্যাক্ট ও চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তর হয়ে যাবে। এছাড়া, স্কাইপ অ্যাপে একটি নোটিফিকেশনও পাবেন, যেখানে আপনার ডেটা মাইগ্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।”
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, স্কাইপ ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের কনট্যাক্ট, চ্যাট ও অন্যান্য তথ্য সহজেই তাঁদের টিমস প্লাটফর্মে স্থানান্তরিত করতে পারবেন। সংস্থার মতে ইউজাররা এখানে আরও অনেক অত্যাধুনিক সুবিধা ও উন্নত যোগাযোগের অপশন পাবেন। তাই পরিষেবার মধ্যে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে এই টেক জায়ান্ট।
তবে স্কাইপ শুধু একটি অ্যাপ ছিল না। এটি ছিল দূরত্ব কমানোর একটি মাধ্যম। প্রিয় মানুষের মুখ দেখা, বিদেশে থাকা বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা কিংবা ক্লায়েন্ট মিটিং- সবই সম্ভব হত স্কাইপের সাহায্যে।