নতুন রঙের সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। যে রঙ আগে কখনও মানুষের চোখে ধরা পড়েনি। নতুন এই রঙটির তাঁরা নাম দিয়েছেন ‘ওলো’। এটি ঠিক সাধারণ কোনো রঙ নয়, বরং এমন কিছু যা আমাদের পরিচিত লাল, নীল, সবুজ বা তাদের মিশ্রণ দিয়েও ঠিক বোঝানো সম্ভব নয়। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা লেজার এবং উন্নত ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঁচজন ব্যক্তিকে এমন একটি রঙ দেখতে সক্ষম করেছেন যা আগে কখনো কোনও মানুষ দেখেনি।
চলতি মাসের ১৮ এপ্রিল, শুক্রবার, ‘সায়েন্স আডভান্সেস’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ওলো’ নামের এই রঙটি এখন পর্যন্ত কেবল পাঁচজন মানুষ দেখতে পেয়েছেন। যারা দেখেছেন, তারা এটিকে ময়ূরের নীল বা টিল রঙের কাছাকাছি বলে বর্ণনা করেছেন। তবে রঙটির স্যাচুরেশন বা তীব্রতা এতটাই বেশি যে তা সাধারণ মাত্রার বাইরে।

এই রঙটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখা সম্ভব নয়। গবেষকদের মতে, ‘ওলো’ দেখতে গেলে রেটিনার পৃথক কোষগুলিকে বিশেষভাবে লেজার দিয়ে আলো ফেলে উদ্দীপিত করতে হয়, যাতে তারা ক্ষমতার বাইরে কাজ করতে পারে।
সহজ করে বললে, আমাদের চোখের রেটিনার মধ্যে তিন ধরনের ‘শঙ্কু কোষ’ বা ‘কোন কোষ’ রয়েছে যারা বিভিন্ন ধরনের রঙের আলোর প্রতি সংবেদনশীল। এইসব কোষগুলির উপর আলো পড়লে আমরা রঙ চিনতে পারি। মানুষের ক্ষেত্রে এই ‘কোন’ সাধারণত তিন ধরনের হয় যা দীর্ঘ ( L), মাঝারি (M) এবং সংক্ষিপ্ত (S) তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলোর প্রতি সংবেদনশীল। প্রাকৃতিক আলো বিভিন্ন রকমের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সংমিশ্রণ যা এই কোনগুলিকে সক্রিয় করে। লাল আলোয় L কোণ উদ্দীপিত হয়, আবার নীল আলো S কোণকে উদ্দীপিত করে। মজার বিষয়, রেটিনার মাঝখানে থাকার জন্য কোনো আলোই M কোণকে উদ্দীপিত করতে পারে না। বিজ্ঞানীরা এই M কোণকেই সক্রিয় করতে পেরেছেন লেজারের সাহায্যে। আর তখনই মানুষের চোখে ধরা দেয় এক নতুন ধরনের রঙ – ‘ওলো’। বিজ্ঞানীদের মতে রঙটি কেবলমাত্র রেটিনার লেজার ম্যানিপুলেশন মাধ্যমেই দেখা সম্ভব।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের, বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী রেন এনজি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, “আমরা শুরু থেকেই ভেবেছিলাম যে এটি একটি অভূতপূর্ব রঙের সঙ্কেতের মতো দেখাবে, কিন্তু আমরা জানতাম না যে আমাদের মস্তিষ্ক তার প্রতি কি ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে। বাস্তবে যখন দেখলাম, আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। রঙটা ছিল অসম্ভব রকম উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত।”
তবে সকলেই যে এই আবিষ্কারকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছেন তা নয়। লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জেসের দৃষ্টি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন বারবার মনে করেন, ‘এই আবিষ্কারের পরিধি সীমিত। এটি আসলে কোনো নতুন রঙ নয়। এটি একটি খুব গাঢ় সবুজ রঙ, যা শুধু লাল-সবুজ বর্ণীয় প্রক্রিয়া সহ একটি বিষয়ের মাধ্যমে তৈরি করা যেতে পরে যখন M কোণ থেকেই একমাত্র ইনপুট আসে।’