Thursday, April 16

বিনোদন

ছোটপর্দায় ফিরতেই কি কি শর্ত দিলেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়?

দীর্ঘ সময় পর আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন বাংলা অভিনয় জগতের প্রবীণ ও প্রিয় মুখ- পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই ফেরা একেবারেই সাধারণ নয়। রয়েছে স্পষ্ট শর্ত, সীমাবদ্ধতা, আর তার মধ্যেই রয়েছে অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি।
ছোটপর্দায় ফিরতেই কি কি শর্ত দিলেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়?
শর্তে ফিরলেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়? ছবি- সংগৃহীত।

Paran Banerjee

দীর্ঘ সময় পর আবার ছোটপর্দায় ফিরছেন বাংলা অভিনয় জগতের প্রবীণ ও প্রিয় মুখ- পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই ফেরা একেবারেই সাধারণ নয়। রয়েছে স্পষ্ট শর্ত, সীমাবদ্ধতা, আর তার মধ্যেই রয়েছে অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি।

নতুন ধারাবাহিক ‘সংসার সংকীর্তন’-এর হাত ধরে দর্শকের ঘরে ফিরছেন তিনি। তবে শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছেন—পুরোনো দিনের মতো দীর্ঘক্ষণ শুটিং আর সম্ভব নয়। তাঁর সাফ কথা, “সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি শুটিং করতে পারব না।”

বর্তমানে যখন অনেক অভিনেতাই ছোটপর্দা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই কেন এই প্রত্যাবর্তন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে দর্শক মহলে।

এই প্রসঙ্গে পরান বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানালেন এক আবেগঘন কারণ। তিনি বলেছেন, এই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে আগে থেকেই তাঁর কাজের সম্পর্ক রয়েছে। ‘কীর্তন’ আর ‘কীর্তনের পর কীর্তন’—এই দুই ছবিতে কাজ করেছেন। তখন থেকেই একটা আত্মিক টান তৈরি হয়েছে। তাই ওরা যখন ধারাবাহিকের কথা বলল, তিনি আর না করতে পারলেন না।

অর্থাৎ, এই ফেরা শুধুই পেশাগত নয়—এর মধ্যে রয়েছে সম্পর্ক, বিশ্বাস আর ভালোবাসার এক গভীর বন্ধন।

সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। বয়সের ছাপ পড়েছে তাঁর শরীরেও। সেই বাস্তবতাকেই স্বীকার করে নিয়েছেন অভিনেতা।তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখন আর ১২-১৪ ঘণ্টা শুটিং তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। দৃষ্টিশক্তিও আর আগের মতো নেই। বেশি সময় কাজ করলে সমস্যা হয়। তাই দিনে মোট ছ’ঘণ্টা বাইরে থাকি, আর শুটিং করি সাড়ে চার ঘণ্টার মতো। এর বেশি পারব না। খোলামেলা স্বীকারোক্তি পরানের।

এই শর্ত রেখেই তিনি রাজি হয়েছেন কাজ করতে। আর প্রযোজনা সংস্থাও সম্মান জানিয়েছে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে। ‘সংসার সংকীর্তন’-এর গল্পেও রয়েছে এক মজার চমক। এখানে দেখা যাবে ঘটি বনাম বাঙালের চিরচেনা টক্কর—যা বাঙালি সংস্কৃতির এক জনপ্রিয় ও রসিক অংশ।

ধারাবাহিকের মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন সব্যসাচী চৌধুরী ও মানালি দে। তাদের রসায়ন যেমন দর্শকদের টানবে, তেমনই অন্যদিকে পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের যুগলবন্দী তৈরি করবে এক অন্য মাত্রা। কৌতুক, টানাপোড়েন আর পারিবারিক আবেগ—সব মিলিয়ে এই ধারাবাহিক হতে চলেছে এক পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের প্যাকেজ।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন একটাই—পরান ও শুভাশিসের মুখোমুখি লড়াই। বহুদিন পর এই দুই অভিজ্ঞ অভিনেতাকে একসঙ্গে ছোটপর্দায় দেখতে পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই লিখছেন, পুরোনো দিনের সেই অভিনয়ের স্বাদ আবার ফিরতে চলেছে।

শেষমেশ, এই প্রত্যাবর্তনের আসল কারণ একটাই—ভালোবাসা। বয়স হয়েছে। শরীর আগের মতো আর সাপোর্ট করে না।  কিন্তু মানুষের টানেই তিনি আবার ফিরতে চলেছেন। সীমাবদ্ধতা থাকলেও, অভিনয়ের মঞ্চ যে তিনি এখনো ছাড়েননি, তাঁর এই মনোভাবেই তা বোঝা যায়। তাই এখন শুধু অপেক্ষা। কবে টেলিভিশনের পর্দায় আবার দেখা যাবে সেই চেনা হাসি, নিখুঁত অভিনয়, আর তাঁর অনন্য উপস্থিতি।

 

তথ্যসুত্র- সংবাদমাধ্যম

আরও পড়ুন – আজ পয়লা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, বছরের প্রথম দিনটি নিয়ে ইতিহাস কি বলছে?

ফলো করুণ-