এতদিন ট্রেন ছাড়ার ঠিক ৪ ঘন্টা আগে তৈরি হত রিজার্ভেশন চার্ট। এই নিয়মের অসুবিধা ছিল অনেক। কোন যাত্রীর নাম ওয়েটিং লিস্ট-এ থাকলে একেবারে যাত্রার ঠিক আগেই জানতে পারতেন ওই নির্দিষ্ট ট্রেনে তিনি আদৌ ভ্রমণ করতে পারবেন কিনা। চার্টে নাম না থাকলে শুরু হত হয়রানি। ট্রেন হাতছাড়া হওয়ার সাথে সাথে চটজলদি বিকল্প উপায় খুঁজতে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেত না। তবে এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনছে রেল। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখন থেকে ট্রেন যাত্রার ২৪ ঘন্টা আগেই তৈরি করা হবে রিজার্ভেশন চার্ট। মানে ঠিক একদিন আগে। এর ফলে, যাত্রীরা যেমন একদিকে জানতে পারবেন যে, তাঁর টিকিট কনফার্ম হলো কিনা, অন্যদিকে টিকিট নিশ্চিত না হলে বিকল্প বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ারও সময় পাবেন। তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন পড়বে না।
বলা বাহুল্য, ইতিমধ্যে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসাবে রাজস্থানের বিকানির রেলওয়ে বিভাগে এই নয়া ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে চলতি মাসের ৬ তারিখ। ফলে, এখন কেবলমাত্র এই শাখার যাত্রীরাই ট্রেন যাত্রার ২৪ ঘন্টা আগে দূরপাল্লার ট্রেনের রিজার্ভেশন চার্ট জানতে পারবেন। নতুন ব্যবস্থায় কোন ত্রুটি বিচ্যুতি আছে কিনা এই ‘ট্রায়াল রান’-এ তা দেখে নেওয়া হচ্ছে। এই সময় কোনো সমস্যা ধরা পড়লে সেগুলিকে চিহ্নিত করে সমাধান করে নেওয়া হচ্ছে। সফটওয়্যারের ‘ট্রায়াল রান’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে গেলে তখন দেশজুড়ে তা চালু করা হবে।
রিজার্ভেশন ব্যবস্থায় বর্তমানে চার ঘণ্টা আগেই চার্ট তৈরি করা হয়। যাত্রীরা তার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে ‘চার্ট প্রিপেয়ার্ড’ এই মেসেজের সাথে কোন কোন সিট তার জন্য বরাদ্দ হল জানতে পারেন। বহুবছর ধরে চলে আসছে এই ব্যবস্থা। অন্যদিকে, টিকিট কাটার সময় ওয়েটিং লিস্টে নাম থাকা যাত্রীরা একরকম ঝুলেই থাকেন। ট্রেন যাত্রার একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করে থাকতে হয়। ঘন ঘন ‘পিএনআর স্টেটাস’ চেক করার পর শেষ পর্যন্ত টিকিট কনফার্ম না হলে মাঝ রাস্তা থেকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। তবে দেরিতে হলেও এই নতুন ব্যবস্থা যদি চালু হয়, যাত্রীরা যথেষ্ট উপকৃত হবেন। ২৪ ঘণ্টা আগে রিজার্ভেশন চার্ট তৈরি হলে হয়রানির হাত থেকে বাঁচবেন রেল যাত্রীরা।