Monsoon in Kolkata: ‘নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে…’ -আষাঢ় এল বর্ষা নিয়ে। অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করল বর্ষা। আজ ১৭ মে মঙ্গলবার, আষাঢ় মাসের দ্বিতীয় দিন, কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে ঢুকে পড়ল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। নেপথ্যে, বঙ্গোপসাগরের তৈরি নিম্নচাপ।
বর্ষা প্রবেশের সাথে সাথেই স্বস্তি ফিরেছে বঙ্গে। আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকলেও তাপমাত্রা অনেকটা কমেছে। উল্লেখ্য এবছর ২৪ মে বর্ষা এসেছিল কেরলে। সেই হিসাবে, প্রায় ২৩ দিন পর দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করল বর্ষা। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে অবশ্য আগেই ঢুকেছিল দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। বালুরঘাটে বর্ষা ঢুকেছিল ২৯ মে। সেই থেকেই উত্তরবঙ্গে আটকে ছিল সে। অনুকূল পরিস্থিতির সুযোগ খুঁজছিল। অবশেষে, প্রায় ২০ দিন পর, নিম্নচাপের হাত ধরে সমগ্র বঙ্গে প্রবেশ করল মৌসুমী বায়ু অক্ষরেখা।
নিম্নচাপের প্রভাবে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি। উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অধিকাংশ জায়গায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আজ বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে কলকাতা সহ প্রায় সব জেলায়।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং বাঁকুড়া জেলার কোনো কোনো জায়গায় আজ প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বজ্রবিদ্যুত সহ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেড়ে দমকা হওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামীকাল ১৮ জুন, বুধবার প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। এছাড়া ওইদিন ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। এইসব জেলায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা। ১৯ তারিখ ভারী বৃষ্টি হতে পারে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদের দু-একটি জায়গায়।
উত্তরবঙ্গেও সপ্তাহ জুড়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আজ জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ১৯ তারিখও এইসব জেলার সঙ্গে কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আগামীকাল জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।