দীঘা-মন্দারমণি ভ্রমণ: আগে মন চাইলেই টুক করে ঘুরে আসা যেত দীঘা-মন্দারমনি। দু-তিন দিনের থাকা-খাওয়া এবং যাওয়া-আসা মিলিয়ে যা খরচ হত, মধ্যবিত্ত বাঙালির গায়ে লাগতো না। তবে বাঙালির সেই সাধের ডেস্টিনেশন আর সস্তা নেই। দাম বেড়েছে সবকিছুরই। ছ’মাস আগেও যে হোটেলের ভাড়া ছিল দেড় থেকে ২ হাজার টাকা, এখন সেই হোটেলই চার-পাঁচ হাজারের নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু হোটেল নয়, সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে খাওয়ায় খরচ এবং গাড়ি ভাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে দীঘা-মন্দারমণি ভ্রমণ হয়ে উঠছে খরচসাপেক্ষ। পকেটে জোর না থাকলে ভোগান্তি হতে হচ্ছে অনেক।
পর্যটকদের মতে হোটেল বুকিং নিয়েও কম ঝামেলা পোয়াতে হচ্ছে না। ট্যাঁকে জোর থাকলে তবেই এখন দীঘা-মন্দারমণি ভ্রমণ, ব্যাপারটা এরকম। একে তো চড়া দাম, তার ওপরে অধিকাংশ সময় মনের মত হোটেল পাওয়াও যাচ্ছে না। অনলাইনে বুকিং করতে গেলেই দেখাচ্ছে ‘সোল্ড আউট’। ফোন করলে হোটেলের তরফ থেকে বলা হচ্ছে হয় ‘রুম নেই’, না হয় দু-একটা যা আছে তার দাম অত্যন্ত চড়া।
দমদম নাগেরবাজারের জয়দেব বাবুর কথাই ধরুন। পরিবার নিয়ে গত সপ্তাহে হঠাৎই প্ল্যান করে দুদিনের জন্য ঘুরে এসেছেন মন্দারমণি। তবে যাওয়ার আগের দিন হোটেল বুক করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হল, তাতে ভীষণ বিরক্ত তিনি। তাঁর কথায়, ‘আগে অনেকবার মন্দারমণি গেছি, কিন্তু হোটেল পাওয়া নিয়ে এরকম হয়রান হতে হয় নি।’ কি হয়েছিল হোটেল পাওয়া নিয়ে? জয়দেব বাবু বলছেন, ‘অন্ততপক্ষে পঞ্চাশটা হোটেলে ফোন করেছি, কোনো জায়গায় ফাঁকা নেই। শেষে এক হোটেলে তিনটে রুম চেয়েও পেলাম দুটো, তাও ডাবল দামে’। তাঁর মতে, হোটেল খরচ বৃদ্ধির সাথে গাড়িভাড়া এবং দুবেলা খাওয়া খরচও অনেকটাই বেড়েছে। তাছাড়া, রাস্তাঘাটে যানজটের সমস্যাও এখন অনেক বেশি।
বর্ষার মরশুমে এমনিতেই দীঘা মন্দারমণিতে পর্যটকের ঢল নামে। বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্র দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। চাহিদা বেশি থাকায় বেড়ানোর খরচও এই সময় তুলনামূলক ভাবে একটু বেশিই হয়। তবে, যে হারে সব জিনিসের দাম বেড়েছে, তাতে অনেক পর্যটক অসুবিধায় পড়ছেন। বিশেষ করে বাজেট যাদের টাইট। তবে, অনেকে এর কারণ হিসাবে বলছেন দীঘার জগন্নাথ মন্দির। এবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন উদ্বোধন হয়েছে দীঘার জগন্নাথ মন্দির। ফলে দীঘায় পর্যটকদের সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়াচ্ছেন পুণ্যার্থীরাও। আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে চাহিদা আর দাম।