Ahaldara View Point
এই পুজোয় দার্জিলিং গেলে ট্যুর প্ল্যানে অবশ্যই সঙ্গে রাখুন অহলদারা ভিউ পয়েন্ট। অন্যরকম অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে থাকবে আপনার এই সফর। সবুজে ঘেরা পাহাড়ি গ্রামের নির্জনতা মন ভোলাবে আপনার। সাত সকালে হিমেল হাওয়ার স্পর্শ, মেঘেদের খুনসুটি, নীল দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সারিবদ্ধ পাহাড় আপনাকে মোহিত করবে। অহলদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে অন্য রুপে দেখা যায়। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের রঙের ছটায় রূপ বদলায় সে।
পুজো আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। তাই ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই। পুজোর সিজনে ট্রেনের টিকিট কাটার পালাও শেষ ইতিমধ্যে। শিয়ালদহ- নিউজলপাইগুড়ি হয়ে সোজা দার্জিলিং। এখন চলছে ট্যুর প্ল্যান সাজানোর পালা। কোথায় ঘুরবো, কি দেখব। তাই এবার অহলদারা মিস নয়।
দার্জিলিংয়ের জানাশোনা চিরাচরিত ভ্রমনস্পটগুলির মধ্যে অহলদারা পড়ে না। দার্জিলিং থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দূরে অবস্থিত এই শান্ত, সবুজ, ছবির মত সুন্দর একটি ছোট পাহাড়ি গ্রাম অহলদারা। নিউ জলপাইগুড়ি থেকেও গাড়ি করে পৌঁছে যাওয়া যায় অহলদারা। প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা। সময় লাগে দু-আড়াই ঘণ্টা। সেবক রোড ধরে গেলে কালিঝোরা ও লাটপঞ্চার পেরিয়ে শেলপু পাহাড়ে পৌঁছে যেতে পারবেন। শেলপু পাহাড়ের কোলেই অবস্থিত অহালদারা।
তবে অহলদারা কোনো অফবিট ডেস্টিনেশন নয়। প্রতি বছরইস বহু পর্যটক এখানে আসেন প্রকৃতিকে উপভোগ করতে। বহু বাঙালি পুজোর সময় ফুরসৎ পেলে শহুরে কোলাহল ছেড়ে নতুন ভ্রমণ ঠিকানার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়েন। তবে কোথায় ঘুরতে যাবেন, সেই নিয়ে দোলাচল চলে। মন যদি পাহাড় টানে, অহলদারা একবার সেই অর্থে ঘুরে যেতে পারেন। আর দার্জিলিং যদি এবারের ঠিকানা হয়, অনায়াসেই দুটো দিন এখানে কাটাতে পারেন। থাকার জন্য পেয়ে যাবেন হোমস্টে।
আরও পড়ুন – ২৩-এ পা দিলেন দিতিপ্রিয়া রায়, জন্মদিনে ছবিতে দেখুন ছোটপর্দার ‘রানিমা’কে
অহলদারা গ্রামে রয়েছে বহুদূর বিস্তৃত চা-বাগান, যা গ্রামটিকে সবুজে ভরে দিয়েছে। কমলালেবুর মরশুমে এখানে প্রচুর কমলালেবু দেখা মেলে। সেই কারণে পর্যটকের ভিড়ও বেড়ে যায়। তবে গ্রীষ্মের সময় কমলালেবু পাবেননা। অহলদারা ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ৩৬০° ভিউ দেখতে পাওয়া যায়। এটাই অন্যতম আকর্ষণ। এখন থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখে আপনার অহলদারা ভ্রমন সার্থক বলে মনে হবে। এখানে আপনি উপভোগ করতে পারবেন মেঘ-রোদ্দুরের খেলা। একসময় মেঘ এসে ঢেকে দেবে গোটা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে, আবার মুহূর্তের মধ্যেই সেই মেঘ কেটে ঝলমলিয়ে উঠবে শ্বেতশুভ্র পর্বতশৃঙ্গ। দিগন্ত জুড়ে সূর্যোদয় আর বিকেলের সূর্যাস্ত আপনার মনে গেঁথে থাকবে আজীবন।
আরও পড়ুন – Dhumketu vs War 2: ‘ওয়ার ২’ এর চাপে কোণঠাসা ‘ধূমকেতু’? ১৪ অগাস্ট টক্কর দেবে কে?
আহলদারায় সিঙ্কোনা গাছের প্ল্যান্টেশন থাকার ফলে প্রচুর সিঙ্কোণা গাছ এখানে দেখতে পাওয়া যায়। এখানকার চা বাগান আর সিঙ্কোনা গাছের সারি গ্রামটিকে সবুজে ভরিয়ে দিয়েছে। তাই এই পুজোর ছুটিতে কটা দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন অহলদারা। উপভোগ করতে পারবেন নতুন কিছু অনুভূতি।