Monday, January 26

দুর্গাপুজোর আগেই হয় বিশ্বকর্মা পুজো, মহাশক্তির আগমনের সঙ্গে কি সম্পর্ক এই পুজোর?

দুর্গাপুজোর আগেই হয় বিশ্বকর্মা পুজো, মহাশক্তির আগমনের সঙ্গে কি সম্পর্ক এই পুজোর?
বিশ্বকর্মা প্রকৃত অর্থে ধরিত্রীর শিল্পী। ছবি- সংগৃহীত।

Vishwakarma Puja

বিশ্বকর্মার আবাহনের পরই দেবীপক্ষের শুভসূচনা হয়। বাংলার উৎসবপঞ্জিতে ভাদ্র সংক্রান্তির তিথি মানেই হল বিশ্বকর্মা পুজো। দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই আসে এই দেবশিল্পীর আরাধনা। আশ্বিনের সূচনায় দুর্গাপুজোর আগে এই বিশ্বকর্মা পুজোর তাৎপর্য কোথায়? মহাশক্তির আগমনের সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এই পুজোর? খোঁজ দিল সিবুলেটিন ডট কম।

কে এই বিশ্বকর্মা? দুর্গাপুজোর সঙ্গে তাঁর আরাধনার কি সম্পর্ক?

শাস্ত্রকারদের মতে, বৈদিক কারিগরি দেবতা ‘ত্বষ্টা’ ও ‘বিশ্বকর্মা’ হলেন একই দেবতা। সূর্যাগ্নিরুপী ত্বষ্টাই হলেন প্রকৃতপক্ষে বিশ্বকর্মা। শতপথ ব্রাহ্মণে বিশ্বকর্মাকে অগ্নিরূপে সমস্ত জগতের রূপস্রষ্টারূপে বর্ণনা করা হয়েছে। আবার বৃহদেবতা গ্রন্থে বিশ্বকর্মাকে ‘বর্ষাকালীন সূর্য’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে-

“নিদাঘমাসাতিগমে যদৃতে নাবতি ক্ষিতিম্।
বিশ্বস্য জনয়ন কর্ম বিশ্বকর্মৈষ তেন সঃ ॥” – বৃহৎসংহিতা ২|৫১

অর্থাৎ গ্রীষ্মের পর যাকে ছাড়া পৃথিবী রক্ষা পায় না, যিনি বিশ্বের কৃষিকর্ম সৃষ্টি করেন, তিনিই হলেন বিশ্বকর্মা। ইন্দ্রের মত তিনিও বর্ষার দেবতা। গ্রীষ্মের শেষে প্রকৃতি যখন শুষ্ক, রুক্ষ আর অনুর্বর হয়ে ওঠে, তখন বর্ষার জলের ছোঁয়া ছাড়া কৃষিকর্ম সম্ভব হয় না। বিশ্বকর্মা সেই সূর্য, যিনি প্রকৃতিকে পুনরায় উর্বর করে তোলেন। শস্যশ্যামলা করেন। কৃষির নব সূচনা তাঁর হাত ধরেই হয়। আর ধরিত্রী যদি শস্য শ্যামলা না হয়, যদি প্রকৃতি নতুন জীবনের আবাহন না করে, তবে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হবে কিভাবে? দুর্গোৎসবের আগে বিশ্বকর্মার আগমন তাই একেবারেই প্রকৃতির ঋতুবৈচিত্র্যের ধারাবাহিকতা।

বিশ্বকর্মা প্রকৃত অর্থে ধরিত্রীর শিল্পী। তিনি মাটি সাজান, মাঠে প্রান্তরে শস্য দিয়ে পৃথিবীকে অলঙ্কৃত করেন। তাঁর আগমনেই বাংলার আকাশ আগমনীর সুরে মুখরিত হয়। নতুন ঋতুর গন্ধে ধরিত্রী হয় মাতৃমুখী।

আরও পড়ুন – AI Mahalaya: দেবীপক্ষের নয়া চমক এবার এআই মহালয়া, দেখবেন কোথায়, কখন?

আরও পড়ুন – তর্পণ কি? মহালয়ার ভোরে তর্পণ করার তাৎপর্য কি?

অরন্ধন

বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বাংলা জুড়ে পালিত হয় অরন্ধন ব্রত। ভাদ্র মাসের শেষ দিন মনসা পুজো উপলক্ষ্যে পালন করা হয় এই অরন্ধন উৎসব। এইদিন বাড়িতে রান্নার জন্য উনুন জ্বালানো হয় না। আগের দিন রাত জেগে রান্নার কাজ সেরে নেওয়া হয়। পরের দিন বাসি খাবার প্রথমে দেবী মনসাকে উৎসর্গ করে তারপর তা গ্রহণ করা হয়। এটাই এই উৎসবের মূল রীতি। বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে অরন্ধনের কোন সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এই আচার পালন করা হয় বলে একে ‘বুড়োরান্না’ বলা হয়। রান্নাঘরের এক জায়গায় ফনিমনসা বা শালুকের ডাল রেখে দেবী মনসার ঘট সাজানো হয়। ভক্তিভরে করা হয় পুজো।