This Pujo Tour Ladakh
লাদাখ মানেই অন্য এক ঠিকানা। উঁচু উঁচু পাহাড়, বরফ ঢাকা শৃঙ্গ, অসংখ্য বৌদ্ধ মঠ আর প্যাংগং লেকের স্বচ্ছ নীল জল। হিমালয়ের অতি দুর্গম, রুক্ষ ও শুষ্ক প্রান্তে অবস্থিত এই ভূমিকে বলা হয় ‘মুনল্যান্ড’। কারণ লাদাখের প্রাকৃতিক দৃশ্য চন্দ্রপৃষ্টের মত অনেকটা ঊষর। তাই লাদাখ ভ্রমণ নেহাতই একটি ছুটি কাটানো নয়, বরং প্রকৃতি এবং আত্মার সঙ্গে গভীর তবে একাত্ম হওয়ার একটি মোক্ষম সুযোগ।
লাদাখের প্রতিটি বাঁকেই আছে দর্শনীয় স্থান। প্যাংগং লেক, সো মোরিরি, নুব্রা ভ্যালি, তুরতুক, ম্যাগনেটিক হিলস। এই যায়গাগুলি একবার গেলে বাকি জীবনে আর ভোলার নয়। লে শহরই হল লাদাখের প্রাণকেন্দ্র। পাহাড়চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ১৭ শতকের লে প্রাসাদ, রাজপরিবারের স্টক প্রাসাদ আর জাপানি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তৈরি শ্বেতশুভ্র শান্তি স্তূপ এই শহরের প্রধান আকর্ষণ। শুধু লে শহর ঘুরে দেখতেই দুদিন কেটে যায়। এখানকার নামগ্যাল ত্সেমো মঠ ও সঙ্কার মঠ প্রাচীন বৌদ্ধ শিল্প ও স্থাপত্যের নিদর্শন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে লে বাজার ও মেইন বাজার রোড। এখানে রঙিন সুভেনির, তিব্বতি গয়না, শুকনো ফল আর লাদাখি পোশাক কেনাকাটা করার অভিজ্ঞতা একেবারেই অন্যরকম। তবে লাদাখের এইসমস্ত স্থানগুলি মোটামুটি সবারই পরিচিত। সাধারণ ট্যুর প্ল্যানে এইসব স্পটগুলি সচরাচর বাদ যায় না। সামনেই লম্বা পুজোর ছুটি। তাই এই ছুটিতে যদি আপনার লাদাখ যাওয়ার প্ল্যান থাকে, তবে লাদাখের দুটি দর্শনীয় স্থান আপনার ইটাইনারিতে রাখতে পারেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অন্য মাত্রা নেবে।
Tour Ladakh: মেরাক
প্যাংগং সো লেকের ঠিক দক্ষিন ধারেই আছে মেরাক। শান্ত, অপরুপ সুন্দর এবং নিরিবিলি একটি পাহাড়ি গ্রাম। লে (Leh) জেলার দক্ষিনে ভারত-চীন সীমান্তে এর অবস্থান। মেরাকের শান্ত এবং নির্জনতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। প্যাংগং হ্রদের নীল জল আর দূরে বরফঢাকা পাহাড়ের পটভূমিতে মেরাক রূপকথাকেও হার মানায়। সাধারণত, এখানে বেড়াতে গেলে পর্যটকেরা প্যাংগং লেকের ধারেই ভিড় করেন, কিন্তু মেরাক তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় এখান থেকে লেকের অসাধারণ সৌন্দর্য আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করা যায়। শুধু তাই নয়, মেরাকের অসাধারণ মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে আকৃষ্ট করবে। এখানকার পাহাড়ি সিলুয়েট এবং অপরূপ সুন্দর প্যাংগং লেকে মানুষের মন হারাতে বাধ্য। মেরাকে বেশিরভাগই চাংপা ও লাদাখি সম্প্রদায়ের বসবাস।
আরও পড়ুন – Darjeeling: শেলপু পাহাড়ের কোলেই আছে অহলদারা ভিউ পয়েন্ট, পুজোয় দার্জিলিং গেলে এই জায়গা মিস নয়
মেরাকে সৌরশক্তির এবং বিএসএনএল স্যাটেলাইটের প্রভাব বেশি। কৃত্রিম উপায়ে তৈরি সৌরশক্তি ও বিএসএনএল স্যাটেলাইট এখানকার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগের চাহিদা পূরণ করে। প্যাংগং হ্রদ ছাড়াও মেরাকের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান হল স্পাংমিক, ম্যান ভিলেজ এবং চাং লা পাস। মেরাক যাওয়ার পথে বহু পর্যটক স্পাংমিকে যাত্রাবিরতি নেন। ম্যান ভিলেজ হল প্যাংগাং লেকের ধারের শান্তিপূর্ণ একটি জনবসতি আর চাং লা পাস হল লে যাওয়ার পথের বিশ্বের সর্বোচ্চ মোটরযান চলাচল পথগুলির মধ্যে অন্যতম।
১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মেরাকের অন্যতম আকর্ষণ হল এখানকার রাতের আকাশ। আকাশভরা তারার আলো আর নীরবতার মাঝে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির সবচেয়ে পরিষ্কার দৃশ্য দেখা যায় একেবারে খালি চোখে। শহুরে কোলাহল থেকে দুদণ্ড শান্তির খোঁজে যারা লাদাখ যান, তাদের কাছে মেরাকের নক্ষত্রখচিত রাতের আকাশ এক স্বর্গীয় অভিজ্ঞতার সমান।
বেশ কয়েক বছর হল মেরাক লাদাখের জনপ্রিয় পর্যটনশিল্পে নাম লিখিয়েছে। তাই পর্যটকদের এখানে থাকার জন্য ছোটখাটো হোমস্টে ও অতিথিশালা পেতে অসুবিধা হয়না।
Tour Ladakh: হানলে
লাদাখ ভ্রমণের পথে প্যাংগং বা নুব্রা ভ্যালির সঙ্গে একদিন সময় করে ঘুরে দেখতে পারেন হানলে। ভারতে অ্যাস্ট্রো ট্যুরিজম এর পীঠস্থান হল এই হানলে। রাতের আকাশের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এখানে তৈরি হয়েছে ভারতের প্রথম নাইট স্কাই স্যাংচুয়ারি। ৪৫০০ মিটার উচ্চতায় এই গ্রামেই রয়েছে হানলে অবজারভেটরি। এখানকার স্টার গেজিং অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানে পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে নক্ষত্রখচিত আকাশের দিকে তাকিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানো যায়। হানলের আকাশ একেবারেই দূষণমুক্ত। তাই খালি চোখেই দেখা যায় রাতের মহাজাগতিক দৃশ্য।
আরও পড়ুন – মাতৃজঠরে প্রাণের স্পন্দন, জরায়ুতে ভ্রূণের প্রতিস্থাপনের ভিডিও প্রথম ‘ক্যামেরাবন্দী’ করলেন বিজ্ঞানীরা
প্যাংগং লেক ঘুরে চুশুল হয়ে সাগা লা পাসের পথ ধরলেই পৌঁছানো যায় হানলে। এই পথেই পড়ে ঐতিহাসিক রেজাং লা ওয়ার মেমোরিয়াল, যেখানে ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে। হানলে যাওয়ার রাস্তার একপাশে অবারিত পাহাড়, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ উপত্যকা। যেন প্রতিটি বাঁকে চোখের সামনে নতুন জগতের আবিষ্কার। লোমা ব্রিজ ধরে সিন্ধু নদী পেরিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এগোলেই সামনে আসে হানলের চিত্রপটে আঁকা গ্রাম। পাশেই রয়েছে তিব্বত সীমান্ত। হানলের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে হানলে নদী। নদী পার হয়ে পাহাড়ের উপরেই রয়েছে হানলে মনাস্ট্রি। মঠের প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মকলা ও প্রার্থনা অন্যতম আকর্ষণ। নদীর ধার দিয়ে এগিয়ে গেলে মিলবে ছবির মত সুন্দর হানলে গ্রাম। এখানে জনবসতি কম হলেও পর্যটকদের জন্য হোমস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। দু-একটা রাত নিশ্চিন্তে কাটানো যায়।