Sara Arjun
‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পাওয়ার আগে অনেকেই ভেবেছিলেন রণবীর সিং-সারা অর্জুনের জুটি কি আদৌ জমবে? কিন্তু ছবি মুক্তির পর পাল্টে যায় পুরো হিসেব। দর্শক কেবল এই জুটিকে গ্রহণই করেনি, বরং ভালোবেসেছে। বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে ‘ধুরন্ধর’ আর ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ আজ সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি। আর এই সাফল্যের জোয়ারে ইন্ডাস্ট্রির নতুন মুখ হয়ে শিরোনামে চলে এসেছে সারা অর্জুন।
রণবীরের সঙ্গে তাঁর অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি প্রথমে যতটা চর্চার বিষয় ছিল, পরে ঠিক ততটাই প্রশংসার। বয়সের ফারাক নিয়ে সমালোচনা হলেও, পেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়ে দর্শক হাততালি দিয়েছে। সাফল্যের ঢেউ এখনও থামেনি। ‘ধুরন্ধর ২’ ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী আয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। আর এই জায়গা থেকেই শুরু হচ্ছে সারার জীবনের নতুন অধ্যায়।
শোনা যাচ্ছে, এবার তিনি শুধু নতুন চরিত্র নয়, এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিতে চলেছেন। এবার তিনি বড় পর্দায় হয়ে উঠতে পারেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালা। বলিউডের স্বর্ণযুগের সেই হাসি, চোখের ভাষা, সেই অদ্ভুত আকর্ষণ—যা আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে, সেটাকেই নতুন করে জীবন্ত করার চ্যালেঞ্জ নিতে চলেছেন সারা। এটা শুধু একটা চরিত্র নয়, এটা একটা উত্তরাধিকার।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বড় প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সঞ্জয় লীলা বনসালি। তাঁর প্রযোজনায় এবং পরিচালক জ্যাসমিত কে রিনের নির্দেশনায় তৈরি হতে চলেছে এই ছবি। এই ছবির মূল ফোকাস শুধু মধুবালার গ্ল্যামার নয়। বরং তাঁর জীবনের অজানা অনেক ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হবে বড়পর্দায়। একদিকে আলো, ক্যামেরা, গ্ল্যামার, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রাম। এই দুইয়ের মাঝখানেই ঠিক দাঁড়িয়ে ছিলেন মধুবালা। মধুবালার জীবনের এই দ্বৈত চরিত্রকেই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে চাইছেন নির্মাতারা। তাই স্বাভাবিকভাবেই, সারার জন্য এই চরিত্র কেবল সুযোগই নয়— বড় মাপের একটি পরীক্ষা।
শোনা যাচ্ছে, এই চরিত্রের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। শুধু লুক বা মেকআপ নয়, বরং সেই সময়ের অভিনয় স্টাইল, শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি—সবকিছুই গভীরভাবে শিখছেন। কারণ, মধুবালাকে শুধু ‘নকল’ করা নয়, তাঁকে অনুভব করাও জরুরি। আর এখানেই আসল চ্যালেঞ্জ। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে যেখানে তিনি আধুনিক চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, সেখানে এবার তাঁকে ফিরতে হবে অতীতের এক অন্য জগতে। সময়টা আলাদা, আবেগটা আলাদা, অভিনয়ের ধরণটাও সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকেই মনে করছেন, এই প্রজেক্টই ঠিক করে দেবে, সারা কেবলমাত্র হিট ছবির নায়িকা, নাকি ভবিষ্যতের বড় তারকা।
বলিউডে এর আগেও অনেক বায়োপিক তৈরি হয়েছে, কিন্তু মধুবালার মতো আইকনিক চরিত্র খুব কমই এসেছে। তাই এই চরিত্র ঘিরে প্রত্যাশাও আকাশছোঁয়া। একদিকে বনসালির গ্র্যান্ড ভিশন, অন্যদিকে এক তরুণ অভিনেত্রীর নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই- এই দুইয়ের মিশ্রণেই তৈরি হতে চলেছে এক বড় সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা।
এখন প্রশ্ন একটাই—সারা কি পারবেন মধুবালার সেই জাদু ফিরিয়ে আনতে? নাকি এই চরিত্রই তাঁকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে? এর উত্তর একমাত্র সময়ই বলবে।
তথ্যসুত্র- সংবাদমাধ্যম
আরও পড়ুন – মহার্ঘতম ছবি ‘রামায়ণ’! ছবির প্রথম ঝলকে কিসের প্রমাণ দিলেন নীতেশ তিওয়ারি?


