Monday, March 23

বিনোদন

গ্র্যামি পেলেন দলাই লামা

গ্র্যামির মঞ্চে দলাই লামার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাৎপর্যপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ে তোলার পথে মানবজাতির কাছে আলোকবর্তিতা রূপে কাজ করবে।
গ্র্যামি পেলেন দলাই লামা
দলাই লামা। ছবি- ইনস্টাগ্রাম।

গ্র্যামি পেলেন দলাই লামা

গ্রামির মঞ্চে শেষ হাসি হাসলেন চতুর্দশ ধর্মগুরু দলাই লামা। লস অ্যাঞ্জেলেসের পিকক থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ৬৮তম গ্র্যামি ( 68th Grammy Awards 2026)-এর আসরে ‘সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং’ বিভাগে ঐতিহাসিক স্বীকৃতি পেলেন তিনি। ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশনস অফ হিস হোলিনেস দ্য দলাই লামা’ ( ‘Meditation: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama’) শীর্ষক অ্যালবামের জন্য গ্র্যামি পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে তিব্বতী এই নবতিপর ধর্মগুরুকে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার ভোরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এবছর গ্র্যামিকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল তুঙ্গে। মোট ৮৬টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগে দলাই লামার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন গ্র্যামির সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং মিলি ভানিলি-খ্যাত ফ্যাব মরভ্যানের মত ব্যক্তিত্বরা। যদিও প্রতিযোগিতায় শেষপর্যন্ত শেষ হাসি হাসেন দলাই লামাই।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Dalai Lama (@dalailama)

তবে অনুষ্ঠান চলাকালীন গ্র্যামির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না দলাই লামা। তাঁর হয়ে এদিনের অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণ করেন কানাডিয়ান-আমেরিকান প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট। মঞ্চে তিনি বলেন, ‘ আমি দলাই লামা নই, এটা একেবারেই পরিষ্কার। দলাই লামার সঙ্গে একই প্রজেক্টে কাজ করা এবং তাঁর হয়ে এই সম্মান গ্রহণ করা সত্যিই অবিশ্বাস্য সম্মানের।” তিনি আরো বলেন, “দলাই লামার কথায়, মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ হল পরস্পরের প্রতি যত্নশীল হওয়া।”

দলাই লামার ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশনস অফ হিস হোলিনেস দ্য দলাই লামা’ এই কাজটি হল আসলে একটি স্পোকেন-ওয়ার্ড মেডিটেশন অ্যালবাম এবং অডিওবুক, যেখানে দালাই লামার আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং শান্তির বাণী সংকলিত হয়েছে। এর সঙ্গে আবহসঙ্গীত হিসেবে একত্রিত করা হয়েছে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মূর্ছনা। অ্যালবামে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন প্রবাদপ্রতিম সরোদশিল্পী ওস্তাদ আমজাদ আলি খান, তাঁর পুত্র আমান আলি বঙ্গাশ ও আয়ান আলি বঙ্গাশ এবং প্রযোজক, লেখক ও সুরকার কবির সেহগাল। মোট ১০টি ট্র্যাকে দলাই লামার শান্তি ও সাম্যের প্রতি গভীর দর্শনের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে আত্মনির্ভরতা, একতা, করুণা, শান্তি এবং সম্প্রীতির মত সার্বজনীন মূল্যবোধ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে চতুর্দশ ধর্মগুরুর পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই ভারতে বসবাস করছেন দলাই লামা। ভারতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। চিন সরকার তাঁকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে মনে করলেও ভারতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে কোনোদিন ছেদ পড়েনি। গ্র্যামির মঞ্চে দলাই লামার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাৎপর্যপূর্ণ এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ে তোলার পথে মানবজাতির কাছে আলোকবর্তিতা রূপে কাজ করবে।

 

আরও পড়ুন – সমাজমাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইছেন আলিয়া ভাট?

ফলো করুণ-