8 Years of Sridevi’s Death
আট বছর আগের ঘটনা। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮। দিনটার কথা মনে পড়বে কারণ ওই দিন একটি চরম ‘দুর্ঘটনা’ ঘটেছিল। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ হারিয়েছিল তাঁর প্রিয় অভিনেত্রীকে। শ্রীদেবীর মৃত্যুতে রাতারাতি শোকের ছায়া নেমে এসেছিল বিনোদন জগতে। দেশজুড়ে ভক্ত এবং অনুরাগীরা চরমভাবে শোকাহত হয়েছিল। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিল গভীর হতাশা থেকে, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ঘনিয়ে আসা কালবৈশাখীর মত। কিন্তু অন্তহীন আবেগের জোয়ারে ভাসলেই যে সবকিছুর সদুত্তর সবসময় পাওয়া যাবে এমনটাও নয়। আইন চলেছে আইনের পথে। এভাবেই কেটে গেল আট বছর।
বনি কাপুরের ভাগ্নে মোহিত মারওয়ার-এর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেবার দুবাই গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে তিনি উঠেছিলেন জুমেইরাহ এমিরেটাস টাওয়ার্স নামের একটি বিলাসবহুল হোটেলে। সঙ্গে বনি কাপুরও ছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কে জানত বিপদ ঘনিয়ে আসছে?
ক্যালেন্ডারে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার ছিল। ওই দিন রাতেই হোটেলের বাথটাব থেকে উদ্ধার হয় শ্রীদেবীর নিথর দেহ। মৃত্যুর পর বনি কাপুরের ভাই দাবি করেছিলেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। কিন্তু দুদিন পরেই বদলে যায় শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণ। বলা হয়, অচৈতন্য অবস্থায় হোটেলের বাথটাবের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। অচৈতন্য হলেন কিভাবে?
ভাগ্নের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বনি কাপুর মেয়ে খুশি কাপুরকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বই ফিরে আসেন। এর ঠিক দুদিন পর স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ফের দুবাই উড়ে যান বনি। কিন্তু মাঝের দুদিন শ্রীদেবী কিন্তু হোটেলে একাই ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু কেন তিনি একা হোটেলে থাকতে গেলেন?
শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটা নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছে সোজা হোটেলের উদ্দেশ্য রওনা হন বনি। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার নাগাদ পৌঁছান হোটেলে। ঘরে পৌঁছে শ্রীদেবীকে ঘুম থেকে তুলে মিনিট ১৫ কথা বলেন তাঁর সঙ্গে। তখনও সব ঠিকঠাক চলছিল। এরপর বনি শ্রীদেবীকে ডিনারে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে শ্রীদেবী খুব খুশি হয়েছিল বলে বনি পরে জানিয়েছিলেন। এরপর ডিনারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বাথরুমে ঢোকেন শ্রীদেবী।
বাথরুম থেকে অনেকক্ষণ বেরোচ্ছেন না দেখে চিন্তায় পড়েন বনি। দরজায় ধাক্কা দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এরপর নিরুপায় হয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙে ফেলেন। দেখেন বাথটাবের জলে ভেসে উঠেছে শ্রীদেবীর দেহ। কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। এই অবস্থায় অচৈতন্য শ্রীদেবীকে ঘরে এনে জ্ঞান ফেরানোর আপ্রান চেষ্টা করতে থাকেন বনি। কিন্তু কোনো লাভ হয়না। বনি তখন তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করেন। রাত ৯টা নাগাদ খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়েও যাওয়া হয় রশিদ হাসপাতালে। ততক্ষণে সব শেষ। এমনটাই লেখা হয়েছিল তখনকার একাধিক প্রতিবেদনে।
বাথটাবের জলে ডুবেই শেষ পর্যন্ত মরতে হল বলিউডের ‘মিস হাওয়া হাওয়াই’কে। ফরেন্সিক রিপোর্ট বলছিল অচৈতন্য অবস্থায় জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। কিন্তু প্রশ্ন আছে। খুব জোর এক থেকে দেড় ফুট হাইটের বাথটাব হবে। তার মধ্যে জলের হাইট মেরেকেটে ওই দেড় ফুটের কম। কিন্তু তাতেই মারা গেলেন শ্রীদেবী। একসময় খবর ছিল, ময়নাতদন্তে নাকি তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। কিন্তু তার পরিমাণ কতটা সেই সম্পর্কে কোনো উত্তর মেলেনি।
বহু বছর পর বনি কাপুর একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “এটি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না, এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ছিল।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেকে স্লিম রাখার জন্য কম ক্যালোরি গ্রহণ করতেন শ্রীদেবী। এজন্য তাঁর প্রেশার নিয়ে সমস্যা ছিল। বিভিন্ন সময় ব্ল্যাকআউটও হয়ে যেতেন। তিনি জানান, আজও তিনি প্রতি মুহূর্তে তাঁর অভাব বোধ করেন।
শ্রীদেবীর মৃত্যু চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে একটি ভয়ঙ্কর সিনেম্যাটিক ট্র্যাজেডি। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছিল। বলিউডের ‘প্রথম লেডি সুপারস্টার’ মাত্র ৫৪ বছর বয়সে যে এভাবে সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন কেউ বোধহয় কল্পনাও করতে পারেনি। নিয়তি কখন কাকে কোথায় টেনে নিয়ে যায় অনুমান করা কঠিন। তবু রয়ে যায় হাজারো প্রশ্ন। মৃত্যুর আট বছর পর বলিউড এখনো শ্রীদেবীকে ভোলেনি। ভুলতেও পারবে না।
তথ্যসুত্র– খালিজ টাইমস, সংবাদমাধ্যম
আরও পড়ুন – দেখুন বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের ছবি, কোন মতে বিয়ে করলেন তাঁরা?
আরও পড়ুন – শর্মিলাকে ইমপ্রেস করতে নাকি ৭টা ফ্রিজ পাঠিয়েছিলেন টাইগার পতৌদি










