Friday, August 29

La Tomatina, Spain

লা টমাটিনা: ৮০ বছরে পা দিল স্পেনের টমেটো ছোড়ার উৎসব, দেখুন মজার ছবি

প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবারে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশের ছোট শহর বুনল-এ টমেটো ছোড়ার উৎসব-এ মেতে ওঠেন মানুষরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন উৎসবে যোগ দিতে। ট্রাক থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় কয়েক শ মেট্রিক টন টম্যাটো। হাজারো মানুষ সেই টম্যাটো একে অপরের দিকে ছুঁড়ে মারতে শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই ‘যুদ্ধ’। টম্যাটোর লাল রস মেখে মানুষ এবং শহর অন্য রূপে সেজে ওঠে।

Share

‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ ছবিতে টমেটো ছোড়ার সিনটা মনে পড়ছে? যেখানে হৃত্বিক রোশন, ফারহান আখতার, অভয় দেওল, ক্যাটরিনা কাইফ আর অ্যারিদনা ক্যাব্রোল হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে টমেটো ছোড়ার উৎসব-এ মেতে উঠেছিল। 

একে অন্যের দিয়ে ছুঁড়ে দিচ্ছিল গোটা গোটা টমেটো। গলে যাওয়া টম্যাটোর রঙে রঙিন হয়ে উঠছিল শহরতলি আর নায়ক নায়িকারা। ছবির এই অংশটা কিন্তু আজও দর্শকদের মধ্যে সমানভাবে জনপ্রিয়।

কিন্তু এই উৎসব নেহাতই একটি সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবেও এর অস্তিত্ব আছে। স্পেনের একটি জনপ্রিয় এবং মজার উৎসব হল এই টমেটো ছোড়ার উৎসব। আনন্দ উল্লাসের ভরপুর এই উৎসবের নাম হল ‘লা টমাটিনা’।

এটি কোনো ধর্মীয় রীতি বা ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে পালিত হওয়া উৎসব নয়, বরং মন খুলে মজা করার উৎসব। যার মূল আকর্ষণ হলো টমেটো দিয়ে লড়াই।

প্রতি বছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবারে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশের ছোট শহর বুনল-এ এই উৎসবে মেতে ওঠেন মানুষরা। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন উৎসবে যোগ দিতে।

এবছর ৮০তম বর্ষে পা রাখল এই অনুষ্ঠান। গত ২৭ আগস্ট ছিল উৎসবের দিন।

সকাল থেকেই শহরে বড় ট্রাকে করে পাকা টমেটো নিয়ে আসা হয়। উৎসব শুরু হয় ঠিক বেলা বারোটায়। তার আগে শহরের এক চত্বরে একটি পিচ্ছিল খুঁটির মাথায় হ্যাম (শুকনো মাংসের টুকরো) ঝোলানো হয়। এরপর হয় ওই পিচ্ছিল খুঁটি বেয়ে ওপরে ওঠার প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগীদের মধ্যে যে কেউ হ্যামটি নামাতে পারলেই উৎসবের সূচনা হয়। তবে প্রায় অসম্ভব এই কাজে কেউ সফল না হলেও অনুষ্ঠান থেমে থাকে না। সঠিক সময় শুরু হয় উৎসব।

ট্রাক থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় কয়েক শ মেট্রিক টন টম্যাটো। হাজারো মানুষ সেই টমেটো নিয়ে একে অপরের দিকে ছুঁড়ে মারতে শুরু করে। রঙিন হয়ে উঠতে শুরু করে শহর ও মানুষজন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই ‘যুদ্ধ’।

টমেটোর লাল রস মেখে মানুষ এবং শহর অন্য রূপে সেজে ওঠে। শেষে পুলিসের সহায়তায় সাফাই কর্মীরা রাস্তা ধুয়ে দেয়। আশ্চর্যের বিষয়, খেলার শেষে দেখা যায়, টমেটোর অ্যাসিডিক রস শহরের রাস্তাকে পরিষ্কার ও চকচকে করে ্তুলেছে।

‘লা টমাটিনা’ উৎসবটির সূচনা হয়েছিল ১৯৪৫ সালের দিকে। উৎসবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে, সেই সময়ে কিছু কিশোর কিশোরীদের মধ্যে গোষ্ঠী সংঘাতের সময় মজার ছলে টমেটো ছোড়াছুড়ি শুরু হয়।

আরেক মতে, বুনল শহরে কোনো একটি স্থানীয় উৎসবের সময়ে শহরের কিছু অসন্তোষ সৃষ্টি হলে কিছু মানুষ স্থানীয় কাউন্সিলরদের উপর টমেটো ছোড়া শুরু করেছিল। সেই ঘটনা পরবর্তীকালে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, তা শেষ পর্যন্ত বার্ষিক উৎসবের রূপ নেয়।

পঞ্চাশের দশকে সেদেশের সরকার একবার এই উৎসব বন্ধ করে দেওয়ারও পরিকল্পনা নিয়েছিল, কারণ এখানে প্রচুর অপচয় হচ্ছিল। কিন্তু মানুষের প্রতিবাদের মুখে আবার এটি চালু করা হয়।

উৎপাদনের অতিরিক্ত টম্যাটো দিয়েই বর্তমানে এই উৎসব পালিত হয়। বিশ্ব জুড়ে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। হোলির মতই রঙের এই খেলায় আছে অনাবিল আনন্দের অনুভূতি। দীর্ঘ ৮০ বছর পেরিয়ে ‘লা টমাটিনা’ এখন স্পেনের বুনল শহরের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।

সব ছবি – ইনস্টাগ্রাম