‘ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল’। যন্ত্রটির নাম ‘রিয়ন পকেট ৫’ (Reon Pocket 5)। দেখতে একেবারে মোবাইলের মত। কিন্তু মোবাইল মোটেই নয়। এই যন্ত্রের কাজ হল শরীরকে ঠান্ডা রাখা। মানে সোজা কথায় বলতে গেলে পকেট এয়ার কন্ডিশনার। রাস্তায় চলতে-ফিরতে শরীরে মিলবে হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া। ভ্যাপসা গরমে যখন নাজেহাল অবস্থা, তখন কেবল জামার কলারে লাগিয়ে দিলেই হল। ব্যাস, সারা শরীর জুড়ে খেলতে শুরু করবে ফুরফুরে ঠান্ডা হাওয়া। না কল্পবিজ্ঞান নয়, ঠিক এমনই একটি আশ্চর্য যন্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছে জাপানি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নির্মাতা, সোনি (SONY)।
দেখতে ছোট হলেও, কাজের দিক থেকে সোনির ‘Reon Pocket 5’ হল একটি পকেটসাইজ এয়ার কন্ডিশনার। তবে পকেটসাইজ হলেও, এটি পরতে হয় গলার পেছনে, বিশেষ একটি নেকব্যান্ডের সাহায্যে। পরার পর যন্ত্রটি অন করলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে যন্ত্রটি শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ঠান্ডা বা গরম হওয়া সরবরাহ করতে শুরু করবে। ফলে হাঁসফাঁস গরমে যেমন একদিকে পাওয়া যাবে শুষ্ক ঠান্ডা বাতাস, তেমনি শীতের সিজনে শরীর জুড়ে প্রবাহিত হবে গরম হাওয়া। অর্থাৎ, সোনির এই ‘ওয়্যারেবল থার্মাল কন্ট্রোল ডিভাইস’ শরীরের উষ্ণতা বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠান্ডা বা গরম হাওয়া সরবরাহ করবে।
পাঁচটি উন্নত সেন্সরে সজ্জিত এই ডিভাইসটি শরীরের তাপমাত্রা, ঘামের মাত্রা এবং পরিবেশের আর্দ্রতা বিশ্লেষণ করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর ঠিক কখন কিধরনের তাপমাত্রা প্রয়োজন, তা বুঝে নিজে থেকেই কাজ শুরু করবে ‘Reon Pocket 5’। এছাড়া ‘Reon Pocket’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে ডিভাইসটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অ্যাপল স্টোর এবং প্লে স্টোর উভয় জায়গাতেই অ্যাপটি উপলব্ধ আছে। আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্লুটুথের মাধ্যমে ডিভাইসটি সংযোগ করে অনায়াসেই তাপমাত্রা বাড়ানো বা কমানোর মত কাজগুলি করা যাবে।
এই মুহূর্তে জাপান এবং হংকং-সহ বেশ কয়েকটি দেশে সোনির এই ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই ডিভাইসটির দাম পড়বে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকার একটু বেশি। আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে ‘Reon Pocket 5’ এখনও লঞ্চ না হলেও, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে।