Bhoot Chaturdashi Tithi
দীপাবলির আগের দিন, অর্থাৎ অমাবস্যার একদিন আগের দিনটি হল ভূত চতুর্দশী তিথি। দীপাবলি উৎসবের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই দিনটি। ভূত চতুর্দশী তিথিতে চোদ্দপ্রকার শাক রান্না করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে শরীর ও আত্মা নাকি দুই-ই শুদ্ধ হয় এবং অশুভ শক্তির অবসান হয়। আবার ঋতু পরিবর্তনের সময় এই শাক শরীরকে রোগমুক্ত রাখতেও সাহায্য করে। ভূত চতুর্দশীর দিন সন্ধ্যেবেলা ঘরে চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানো হয়। বিশ্বাস করা হয় এইদিন পিতৃপক্ষ ও মাতৃপক্ষের পূর্বপুরুষরা তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার জন্য মর্ত্যে নেমে আসেন। বাড়ির প্রতিটি কোণে তাই এদিন প্রদীপ বা মোমবাতি জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিশ্বাস করা হয়, চোদ্দ প্রদীপের আলো অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে দেয়।
ভূত চতুর্দশী তিথিকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনী। এক মতে, দৈত্যরাজ বলি স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল দখল করলে পৃথিবীতে অশুভ শক্তির অত্যাচার ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে ভগবান বিষ্ণু তখন বামন অবতার ধারণ করেন এবং বলির কাছে তিন পা জমি চান। বলি রাজি হলে বিষ্ণু তাঁর দুই পা স্বর্গ ও মর্ত্যে রাখেন, আর তাঁর নাভি থেকে বেরিয়ে আসা তৃতীয় পা বলির মাথায় রেখে তাঁকে পাতালে পাঠিয়ে দেন। তবু নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বিষ্ণু বলিকে আশীর্বাদ করেন যে, প্রতি বছর তিনি পৃথিবীতে এসে পূজা পাবেন। বিশ্বাস করা হয়, সেই কারণেই কালীপূজার আগের রাতে রাজা বলি পৃথিবীতে পুজো পাওয়ার জন্য সহস্র ভূত-প্রেত নিয়ে পাতাল থেকে উঠে আসেন।
অন্য একটি মতে, এই চতুর্দশীর দিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী সত্যভামা রাক্ষস নরকাসুরকে বধ করে ১৬,০০০ গোপীকে মুক্ত করেন। আবার অন্যমতে, চামুণ্ডা রূপে মা কালী ভক্তের বাড়ি থেকে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে এই রাতে চোদ্দ ভূতকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন ।
তবে ভূত চতুর্দশী তিথি নিয়ে নানা মুনির নানান মত প্রচলিত থাকলেও, সব মত ও কাহিনীর মূল সুর কিন্তু এক। অন্ধকার ও অশুভ শক্তির অবসান। তাই ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ প্রদীপ জ্বালিয়ে ঘর আলোকিত করে রাখা হয়। দূর করা হয় সমস্ত নেতিবাচক শক্তি।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবছর ভূত চতুর্দশীর সূচনা হবে ২ কার্তিক, অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর, রবিবার দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে। পরের দিন অর্থাৎ ৩ কার্তিক, ২০ অক্টোবর, সোমবার শ্যামাপূজা। সেই সঙ্গে ভূত চতুর্দশী তিথির সমাপ্তি দুপুর ৩টে ৪৫ মিনিটে।





