Friday, March 20

বিনোদন

রক্তগরম হলেই বক্সঅফিস গরম! কেমন হল ‘ধুরন্ধর ২’?

প্রথম কিস্তিতে সহিংসতার সাথে পরিচয় হওয়ার পর অনেকটা যেন গা-সওয়া ভাব হয়ে গেছে দর্শকদের। ফলে এই অধ্যায়ে চরম নৃশংস কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তেমন চমক সৃষ্টি করতে পারেনি।
রক্তগরম হলেই বক্সঅফিস গরম! কেমন হল 'ধুরন্ধর ২'?
'ধুরন্ধর ২' ছবিতে রণবীর সিং। ছবি- সংগৃহীত।

Dhurandhar: The Revenge Film Review

কেমন হল ‘ধুরন্ধর ২’?

প্রায় তিন মাস পরে মুক্তি পেল রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির আগে থেকেই এই ছবি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা কি আদৌ পূরণ হল? ৩ ঘন্টা ৪৯ মিনিটের এই ছবি দেখে মনে হয় পেক্ষাগৃহে বসে বড়পর্দায় ওটিটি সিরিজ দেখছি। ছবিতে অ্যাকশন আর রক্তপাত নিয়ে কোনরকম কার্পণ্য করেননি পরিচালক আদিত্য ধর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই হত্যালীলা। গোলাগুলি, রক্তপাত আর বিস্ফোরনের তাণ্ডব। প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা ধরে কিছু মানুষ একে অপরকে আঘাত আর যন্ত্রণা দিয়ে গেল। এককথায়, হিংসার নান্দনিক উল্লাস। উগ্র জাতীয়তাবাদের সঙ্গে রক্তারক্তির এমন ফিউশন আগে কখনো বলিউড দেখেছে কিনা সন্দেহ। তবে বিপজ্জনক হলেও এটাই এখন ‘ট্রেন্ড’। ছোঁয়াচে অতিমারির মত ছেঁকে ধরছে গোটা ইন্ডাস্ট্রিকে। এই ‘প্রোপাগান্ডা’ আর হিংসা যদি এই মুহূর্তে ভালো ব্যবসা করার একমাত্র উপায় হয় তাহলে পরিচালকের দোষ কিসে? দর্শকের মন আর মস্তিস্ক যদি এটাতেই তৃপ্তি লাভকরে তাহলে বক্সঅফিস সাফল্য তো শ্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রক্তগরম হলেই বক্সঅফিস গরম! এই সোজা কথার কি ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়? বাকি বিশ্লেষণ তো গৌণ।

দেশপ্রেমের ‘অতিরঞ্জিত’ আবেগেই ছবির সুত্রপাত। জসকিরত সিং রঙ্গি ওরফে হামজা আলি মাজারি নিয়ে কৌতূহল ছিল অন্তহীন। মুক্তির পর দর্শকের সেই বাসনা নিশ্চয়ই পূর্ণ হয়েছে। লিয়ারির বেতাজ বাদশা হয়ে কায়েম করেছে তাঁর সাম্রাজ্য। ছবিতে রণবীর সিং তাঁর সেরাটা দিয়েছেন। দুই অবতারেই। চরিত্রে পুঞ্জীভূত হওয়া অতীতের যন্ত্রণা প্রতিশোধস্পৃহায় পরিণত হয়ে প্রকাণ্ড বিস্ফোরণ ঘটেছে এই অধ্যায়ে। সোনার দাঁতওয়ালা আইএসআই মেজর ইকবালের চরিত্রে অর্জুন রামপাল এখানে অনবদ্য। নৃশংস অ্যাকশন আর ঠান্ডা মেজাজে তাঁর বলা ডায়ালগগুলো বেশ উপভোগ্য। আগের পর্বের তুলনায় সঞ্জয় দত্ত বেশ কিছুটা জায়গা পেয়েছেন এবং তার সদ্ব্যবহারও করেছেন। রেহমান ডাকাইতের অনুগত ভাই ডানিশ পান্ডিকে একপেশে করে রাখা হয়েছে। আর মাধবন ও রাকেশ বেদির-র মতো অভিনেতারা আর একটু সুযোগ পেতে পারত। এমনকি একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মহিলা চরিত্র হিসেবে সারা অর্জুন কয়েকটি দৃশ্যে দক্ষতার ছাপ রাখলেও তার পরিসর অত্যন্ত কম। এরপর বলিউড ছবিতে নারী চরিত্রের প্রয়োজন পড়বে কিনা বিশ্লেষণ দরকার। ‘ধুরন্ধর’-এর এই দ্বিতীয় পর্বে এসে অক্ষয় খান্নার অভাব স্পষ্ট বোঝা যায়। রেহমান ডাকাইতের শূন্যতা হয়তো পূরণ হওয়ারও নয়। তবে সব সীমাবদ্ধতার মাঝে ছবিকে ধরে রেখেছেন রণবীর সিং। স্বীকার করতেই হয়।

প্রথম পর্বের তুলনায় এই ছবিতে সহিংসতার মাত্রা কমেনি। তবে কমেছে তার প্রভাব। প্রথম কিস্তিতে সহিংসতার সাথে পরিচয় হওয়ার পর অনেকটা যেন গা-সওয়া ভাব হয়ে গেছে দর্শকদের। ফলে এই অধ্যায়ে চরম নৃশংস কিছু দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তেমন চমক সৃষ্টি করতে পারেনি। বোমাবাজি, বিস্ফোরণ, অঙ্গচ্ছেদ বা নির্মম নির্যাতনের দৃশ্যগুলোও কতটা গভীরে দর্শকমনে প্রভাব ফেলতে পেরেছে তা বলা কঠিন। একেক সময় দেশভক্তির ‘অতিরঞ্জিত’ কাহিনী একঘেঁয়ে বলে মনে হয়েছে। ছবির অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল প্রথম পর্বের সাফল্যকে অতিক্রম করা। তবে প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ এই নির্মাণে সেই প্রত্যাশা পূরণ কতটা হয়েছে সময় বলবে। গল্প, গতি এবং চরিত্র সব ক্ষেত্রেই কোথাও না কোথাও যেন কিছুর অভাব রয়ে গেছে। যদিও সবশেষে স্বস্তি দেয় শুধু ক্লাইম্যাক্স। আর শাশ্বত সচদেবকে এবারেও কুর্ণিশ।

সব মিলিয়ে, ‘ধুরন্ধর ২’ একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রচেষ্টা হলেও তা প্রত্যাশার ভারে অনেকটাই ন্যুব্জ। প্রথম পর্ব যেখানে দর্শককে চমকে দিয়েছিল, দ্বিতীয় পর্ব সেই অর্থে অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত পথে হাঁটে। ফলে ভরপুর বিনোদন থাকলেও, সেই তীব্রতা ও নতুনত্বের অভাব কোথাও যেন স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়।

 

আরও পড়ুন – ৯৮তম অ্যাকাডেমি পুরস্কার, দেখুন ২০২৬-এর অস্কার বিজয়ীদের সম্পূর্ণ তালিকা

আরও পড়ুন – মীনা কুমারী, ‘পাকিজা’ ও কামাল আমরোহী

ফলো করুণ-