Lunar Eclipse 2025
গতকালই দেখা গেছে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫৮ মিনিট থেকে ফ্যাকাশে হতে শুরু করে চাঁদ। তারপর সময় যত গড়ায়, ধীরে ধীরে লাল হতে থাকে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। রাত ৯টা ৫৭ মিনিট আংশিক গ্রহণের প্রক্রিয়া হয়। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয় রাত ১১টা নাগাদ। সাড়ে এগারোটার পর সম্পূর্ণ লাল হয়ে ওঠে চাঁদ। সর্বমোট ৮২ মিনিটের এই লাল চাঁদই ছিল গতকালের চন্দ্রগ্রহণের সর্বোত্তম আকর্ষণ। ভারতের প্রায় সব শহর থেকেই দেখা গিয়েছিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য। কলকাতার রাতের আকাশ গতকাল পরিষ্কার থাকায়, শহরবাসীদের মধ্যে লাল চাঁদ দেখার আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
আমাদের চেনা চাঁদকে আমরা সাধারণত সাদা বা রূপালি আলোয় দেখতেই অভ্যস্ত। কিন্তু পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় সেই চেনা চাঁদ লাল আলোয় মুড়ে হয়ে ওঠে লাল চাঁদ বা ব্লাড মুন। এমন মহাজাগতিক দৃশ্যের পিছনে রয়েছে পৃথিবী, সূর্য ও চাঁদের পারস্পরিক অবস্থান এবং আলোক বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম নিয়ম।
চাঁদ, পৃথিবী আর সূর্য যখন কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে এক সরলরেখায় আসে, তখন পৃথিবী সূর্যের আলোকে সরাসরি চাঁদের ওপর পড়তে বাধা দেয়। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবীর ছায়া সম্পূর্ণরূপে চাঁদকে ঢেকে ফেলে। এই অবস্থায় মনে হয় আলোর অভাবে চাঁদ সম্পূর্ণ কালো রঙের দেখাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে ঢেকে ফেললেও চাঁদ তখন সূর্যের বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কমলা থেকে গাঢ় লাল রঙের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। আলোর এই অদ্ভুত কার্যকলাপের জন্য দায়ী হল আসলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল।
আরও পড়ুন – ‘পুলিশ স্টেশন মে ভূত’, এবার কি তাহলে ভুতের খপ্পরে ‘ফ্যামিলি ম্যান’?
বস্তুত, সূর্যের আলো দেখতে সাদা বলে মনে হলেও আসলে তা সাতটি ভিন্ন রঙের আলোর সংমিশ্রণ। প্রতিটি রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন রকমের। চন্দ্রগ্রহণের সময় যখন সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেদ করে চাঁদের ওপর গিয়ে পড়ে, তখন তার পথ পরিবর্তন হয় বা প্রতিসরিত হয়। ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো- যেমন নীল ও বেগুনি সহজেই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো, যেমন লাল ও কমলা তেমন না ছড়িয়ে সহজেই বেঁকে গিয়ে চাঁদের ওপর গিয়ে পড়ে। ফলে এইসময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার ভেতর থাকা সত্ত্বেও সূর্যের লাল রঙের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
আলোর এই ঘটনা আরও ভালোভাবে বোঝা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়। ভোরবেলা বা সন্ধ্যার সময় দিগন্তের আকাশ লালচে দেখায় ঠিক একই কারণে। তখন সূর্যের আলোকে অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আমাদের চোখে পৌঁছাতে হয়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে নীল আলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ার কারণে তা আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় না। শুধু লাল তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আমাদের চোখে এসে পড়ে। ফলে দিগন্তে চাঁদ বা সূর্যকে লাল রঙের দেখায়। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময়ও ঠিক একই কারণে চাঁদকে লাল দেখায়।
আরও পড়ুন – খুব শীঘ্রই আসছে ইন্দু সিজন ৩, হইচই-তে স্ট্রিমিং শুরু কবে?
তবে মজার বিষয়, লাল চাঁদও সবসময় একরকম দেখায় না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যদি দূষণ, ধূলিকণা কিংবা আগ্নেয়গিরির ছাই ভেসে থাকে, তবে আলো আরও বেশি শোষিত হয় এবং চাঁদের রঙ গাঢ় লাল থেকে বাদামি বা প্রায় কালচে পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি বায়ুমণ্ডল পরিষ্কার থাকে, তাহলে, চাঁদের রঙ হালকা কমলা দেখায়। অর্থাৎ লাল চাঁদ কেবলমাত্র যে মহাজাগতিক ঘটনার ফল তা কিন্তু নয়, বরং আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য বা প্রকৃতি কেমন তারও ইঙ্গিত দেয়।


