ব্ল্যাকলিস্টেড আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা B62?
মুক্তির ঠিক আগেই আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ল ‘ধুরন্ধর ২’। চরম বিপাকে আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা। মুম্বইয়ে ছবির শুটিং চলাকালীন একের পর এক নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে পরিচালক আদিত্য ধর এবং তাঁর ভাই লোকেশ ধর-এর বি৬২ (B62) স্টুডিও-কে ব্ল্যাকলিস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি)। সংস্থার অভিযোগ, ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবির শুটিং চলাকালীন আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা বিএমসির সুরক্ষা বিধি মেনে কাজ করেনি।
আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ একাধিক। কি সেই অভিযোগ? জানা গেছে , অনুমতি ছাড়াই একটি ভবনের বারান্দায় শুটিং করা হয়েছিল এবং দুটি জেনারেটর ভ্যান ব্যবহার করা হয়। ছবির সেটে আগুন ও দাহ্য পদার্থ ব্যবহারের মতো গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এর পরই নাগরিক সংস্থা কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটে। খবর, পৌরসভার ‘জোন ১’-এর ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনার B62 স্টুডিওস এবং তার সঙ্গে যুক্ত আরও দুই আবেদনকারীকে স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোমল পোখরিয়াল, নাসির খান এবং বি৬২ স্টুডিও ভবিষ্যতে মহারাষ্ট্র ফিল্ম, স্টেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড-এর ওয়েবসাইটে শুটিংয় অনুমতির জন্য আর আবেদন করতে পারবে না।
বিএমসি কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার এ-ওয়ার্ড এলাকায় শুটিং চলাকালীন অনিয়ম ধরা পড়ে। গত ৩০ জানুয়ারি এ ওয়ার্ডের মোদি স্ট্রিট ও পেরিন নরিম্যান স্ট্রিটের মধ্যে এই শুটিং-এর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে কোমল পোখরিয়াল ১৩ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শুটিং-এর জন্য অনুমতিপত্র জমা করেন। কিন্তু আগের নিয়মভঙ্গের কারণে সেই আবেদন খারিজ করে কর্তৃপক্ষ। এরপর, ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত শুটিংয়ের জন্য ফের একটি আবেদন জমা পড়ে। এই আবেদনে প্রযোজনা সংস্থা আশ্বাস দিয়েছিল যে সেটে কোন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু এবারও শর্ত মানেনি আদিত্য ধরের স্টুডিও। পুলিশের কাছে অভিযোগ পড়ে যে শুটিং চলাকালীন জ্বলন্ত টর্চ বা মশালের মতো দাহ্য বস্তু ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কিনা পুলিশি শর্তে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা ছিল।
অভিযোগ আসার পর মুম্বাই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচটি জ্বলন্ত টর্চ বাজেয়াপ্ত করে। যদিও এর আগে আবেদনকারীরা লিখিতভাবে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে শুটিংয়ের সময় কোনও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হবে না এবং প্রয়োজনে ছবির সেই দৃশ্যগুলি ভিএফএক্সের মাধ্যমে তৈরি করা হবে।
এই ধারাবাহিক নিয়ম রীতি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএমসি একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আবেদনকারীর জমা দেওয়া ২৫,০০০ টাকার ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’। পাশাপাশি শুটিংয়ের সময় অনুমতি ছাড়াই দুটি জেনারেটর ভ্যান ব্যবহার এবং এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিপন্ন করতে পারে এমন গুরুতর বিধি লঙ্ঘনের জন্য ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বেজায় অস্বস্তির মুখে আদিত্য ধরের বি৬২ প্রযোজনা সংস্থা। অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ছবির বাকি শুটিং নিয়ে। এদিকে আগামী ১৯ মার্চ বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। যদিও এখনো পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ছবির মুক্তি এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়াবে সেই দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে দর্শকরা।
আরও পড়ুন – পাকিস্তানে ১৬ টাকায় বিকোচ্ছে ‘ধুরন্ধর’-এর ‘পাইরেটেড কপি’?
আরও পড়ুন – এই মুহূর্তে রণবীর কাপুরের পছন্দের ছবি কোনটা জানেন?


