রম্য রচনা
আত্মজীবনী
যখন ছোটো ছিলাম, সব্বাই আমায় কত ভালোবাসত। কত আদর-যত্নে রাখত। যার ঘরে যেতাম, এক অদ্ভুত মুগ্ধতায় তাকে আচ্ছন্ন করতাম। গর্বে তার বুক ফুলে উঠত। এককথায়, তার স্টেটাস বেড়ে যেত।
ছোটবেলায় অবশ্য একটু ক্যাবলা ছিলাম। একঘেয়ে, বোরিং ছিলাম। বেঢপ চেহারা ছিল- বোকা বাক্সের মতো। তারপর বড়ো হয়েছি, ছোটো বেলার উঁচিয়ে থাকা ভুঁড়িটা ত্যাগ করে স্লিম হয়েছি।
তারপর, দিনদিন যত বড়ো হয়েছি ….চৌদ্দ থেকে ষোলো, ষোলো থেকে চব্বিশ, চব্বিশ থেকে বত্রিশ… আমার যৌবন-জৌলুসও বেড়েছে। আরো, আরো ঝকঝকে হয়েছি, স্মার্ট হয়েছি….যাতে তোমাদের মনের মণিকোঠায় জায়গা নিতে পারি।
একসময় যখন চল্লিশ পেরোলাম, মানুষের মন-ও যেন ধীরে ধীরে সরে যেতে লাগলো।
আসলে, বাজারে ওই বেশ্যাটা এসে আমার স্টেটাস নষ্ট করে দিল।
নিজেকে আবার সে স্মার্ট বলে! ওরে, নিজের শরীর বিকিয়ে দিয়ে, জনপ্রিয়তা অর্জন করাটা স্মার্টনেস নয়।
আমায় দেখ, আজ অবধি আমি এত লোকের ঘরে গেছি, কাউকে আমি আমার গায়ে হাত দিতে দিইনি। যা করার ভাই দূর থেকে করো। আমায় দেখো, রিমোট ফ্লার্ট করো, কথা বলো… কিন্তু গায়ে হাত দেয়া আমার পছন্দ নয়।
আরে তুই যদি স্মার্ট হোস, আমি তো আল্ট্রা। ভাই, নিজের মর্যাদা সম্মান নিজের কাছে, ওসব তোদের মতো চরিত্রহীনরা বোঝে না।
আজ আমার দিকে চেয়ে দেখার ফুরসৎ কমে এসেছে সাধারণ মানুষের কাছে। কিছু নস্টালজিক বয়স্ক মানুষের কদর নিয়ে আমি বেঁচে আছি।
কেউ বলে আমি ছাপ্পান্ন অবধি ঠিক ছিলাম। সে যে যা বলে বলুক! আমি মনে করি, বাহাত্তরের দোরগোড়ায় পৌঁছেও, আমি অন্যের তুলনায় স্মার্ট। যারা সত্যি আমায় ভালোবাসে, আজও আমায় 4K, UHD বলে বাহবা দেয়।
পিঠে একটু বাঁক ধরেছে। কোম্পানিগুলো যদিও তাকে curved টিভি বলে ব্রান্ডিং করছে, আমি জানি, ওটা স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন। আমি বিশ্বাস করি, ওই স্মার্টফোন যতই আমার জায়গা নেবার চেষ্টা করুক, নিজের কাছে আমি কখনো ছোট হই নি, হবোও না।