বড়পর্দায় ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ আর ‘নায়ক’
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বেশ কয়েকটি ছবি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ সেগুলির মধ্যে অন্যতম। সত্যজিৎ রায়ের ১৯৭০ সালের এই ক্লাসিক এবার নতুন রূপে ফিরছে বড় পর্দায়। এই নভেম্বরেই ছবির পুনরুদ্ধার করা ঝকঝকে ৪কে সংস্করণটি ইংরাজি সাবটাইটেল সহ দেখানো হবে দক্ষিণ কলকাতার প্রসিদ্ধ প্রিয়া সিনেমা হলে। আসন্ন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও দেখানো হবে এই ছবি। আমন্ত্রিত হয়েছেন শর্মিলা ঠাকুরও।
‘অরণ্যের দিন রাত্রি’ ছবিটি নির্মিত হয়েছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে। ছবির প্রযোজনা করেছিলেন বর্তমান প্রিয়া সিনেমা হলের কর্ণধার অরিজিৎ দত্তের মা-বাবা। গল্পের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ , সামিত ভঞ্জ, শর্মিলা ঠাকুর , সিমি গরেওয়াল ও কাবেরী বোসের মত অভিনেতা অভিনেত্রীরা। ছবির গল্প ছিল এরকম- শহুরে জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তির খোঁজে চার যুবক অরণ্যে গিয়েছিল। সৌমিত্র, শুভেন্দু, রবি ঘোষ ও সমিত ভঞ্জ হলেন সেই চার যুবক। যেখানে গিয়ে তাঁদের পরিচয় হয় একাধিক নারী চরিত্রের সঙ্গে। এই পরিচয় শেষে তাঁদের আত্মচেতনা ও জীবনের অর্থ খোঁজার পথে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক যাত্রায় পরিণত হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘কান ক্লাসিক’ বিভাগে ছবিটির ৪কে সংস্করণটি প্থমবারের জন্য বিশ্বাপ্রিমিয়ার হয়। এই বিভাগেই ছিল চার্লি চ্যাপলিনের কালজয়ী সৃষ্টি ‘ গোল্ড রাস’ ছবিটিও। প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন শর্মিলা ঠাকুর ও সিমি গারেওয়াল। ছবির সংস্কারকার্যের দায়িত্বে ছিলেন মার্টিন স্করসেসে এবং ওয়েস অ্যান্ডারসন। রঙ, আলো শব্দের নিখুঁত পুনর্গঠন এই ছবিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
আগামী ৭ ই নভেম্বর, ২০২৫ ভারতজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’। কলকাতা ছাড়া দিল্লি, মুম্বই এবং ব্যাঙ্গালোরের মত শহরেও মুক্তি পাবে সত্যজিৎ রায়ের এই অমর সৃষ্টি। শুধু তাই নয়, এর ঠিক পরের সপ্তাহেই ইংরাজি সাবটাইটেল সহ মুক্তি পাবে ‘মানিকদা’র আর একটি কালজয়ী সৃষ্টি ‘নায়ক’ ছবির পুনরুদ্ধার করা সংস্করণ। চলচ্চিত্র উৎসব শেষ হওয়ার পরবর্তী সপ্তাহ জুড়ে বিভিন্ন নির্বাচিত পেক্ষাগৃহে দেখানো হবে এই ছবি।
‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ বর্তমান সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর এসেও যার প্রাসঙ্গিকতা আজও অটুট। শহরের ব্যস্ততা ও প্রকৃতির মাঝে শান্তির টানাপড়েন, মধ্যবিত্ত পুরুষের আত্মসন্ধান, নারী স্বাধীনতার নতুন ভাষা ও জীবনের মূল্যবোধের পুনঃআবিষ্কার, সবকিছু আজও দাগ কেটে যায় মানুষের মনে। সত্যজিৎ রায় এই ছবির মধ্যে মানুষের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বিভাজনকে সিনেম্যাটিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
সব ছবি– ইনস্টাগ্রাম
আরও পড়ুন – প্যাস্টেল শিফন শাড়িতে মহারানি গায়ত্রী দেবীকে অনন্যা পাণ্ডের শ্রদ্ধাঞ্জলি




