Vivo X200 Ultra: গত ২১ এপ্রিল চিনে আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হয়েছিল Vivo-র নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন X200 Ultra। আর তার পর থেকে এটি প্রযুক্তিপ্রেমী ও মোবাইল ফটোগ্রাফারদের মধ্যে নিমেষেই হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় একটি স্মার্টফোন।
Vivo X200 Ultra ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে Qualcomm Snapdragon 8 Gen 3 “Elite” প্রসেসর। ফোনের সর্বোচ্চ কনফিগারেশনে ছিল ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট স্টোরেজ। এছাড়া ৬.৮২ ইঞ্চির উজ্জ্বল OLED ডিসপ্লে, আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং IP রেটিংযুক্ত জল-ধুলো প্রতিরোধ করার ক্ষমতা সহ ৯০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধাও ছিল এই ফোনে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্মার্টফোনের মূল আকর্ষণ হল এর ক্যামেরা। এই ফোন পকেটে থাকলে সঙ্গে DSLR ক্যামেরা থাকার অনুভুতি হয়। প্রকৃতপক্ষে, পেশাদার DSLR ও Mirrorless ক্যামেরার লেন্সের সাথে এর সামঞ্জস্যতা এই ফোনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
এই ফোনের পেছনের ক্যামেরা সেটআপেই রয়েছে একাধিক চমক। Vivo X200 Ultra ফোনের রিয়ার প্যানেলে আছে তিনটি ক্যামেরা- দুটি ৫০ মেগাপিক্সেলের SONY সেন্সর এবং একটি ২০০ মেগাপিক্সেলের SAMSUNG সেন্সর। এর মধ্যে একটি ক্যামেরায় রয়েছে ১৪ মিলিমিটার আল্ট্রা ওয়াইড লেন্স, অন্যটিতে ৩৫ মিলিমিটার পোর্ট্রেট লেন্স, আর তৃতীয়টিতে ৮৫ মিলিমিটার টেলিফটো লেন্স যা জুম ও ম্যাক্রো শট তুলতে পারদর্শী।
এছাড়া, সব ক্যামেরাতেই সর্বোচ্চ ১২০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে ৪কে ভিডিও তোলার সুবিধা রয়েছে। ভিডিও প্রসেসিং-এর জন্য এই ফোনে ব্যবহৃত হয়েছে দুটি আলাদা চিপসেট। এর মধ্যে প্রথমটি রিয়েল-টাইম RAW প্রি-প্রসেসিংয়ের জন্য এবং অন্যটি পোস্ট-প্রোডাকশন, কালার কারেকশন ও ফিল্টার অ্যাপ্লাইয়ের জন্য। ফলে মোবাইলে তোলা ভিডিওতেও পাওয়া যাচ্ছে সিনেম্যাটিক কোয়ালিটি। এছাড়া, ফোনের ফ্রন্ট প্যানেলে দেওয়া হয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য যা কিনা যথেষ্ট শক্তিশালী।

তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে এই ফোনের ‘ফটোগ্রাফার কিট’। এর মধ্যে রয়েছে একটি ডেডিকেটেড গ্রিপ হ্যান্ডেল, ফিজিক্যাল ডায়াল, জুম কন্ট্রোল, অতিরিক্ত ব্যাটারি এবং Zeiss-এর একটি টেলিফটো লেন্স। এই লেন্স ব্যবহার করে ৩.৭ গুণ থেকে ৮.৭ গুণ পর্যন্ত অপটিক্যাল জুম করা সম্ভব। ফলে যারা পেশাদার ফটোগ্রাফির দিকে ঝুঁকছেন, তাদের কাছে এটি এক আকর্ষণীয় সংযোজন।
বর্তমানে চিনে এই ফোনের ১২ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৬ হাজার টাকা থেকে। পাশাপাশি, ১৬ জিবি র্যাম এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টের মুল্য প্রায় ৯৪ হাজার টাকা। তবে ‘ফটোগ্রাফার কিট’ আলাদাভাবে কিনতে গেলে গুনতে হবে ২৫৯৮ ইউয়ান বা ৩০ হাজার টাকা। তবে একটি বাণ্ডেল প্যাকেও এই ফোন এবং আনুষঙ্গিক কিট একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।
মোটের উপর, Vivo X200 Ultra কে শুধুমাত্র একটি ফোন বললে ভুল বলা হবে। এই ফোনের ক্যামেরা ফিচার ঈর্ষণীয়। তবে DSLR বা মিররলেস ক্যামেরার সাথে এর সেন্সরের আকার এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক ছোট। তাই রাতের স্বল্প আলোয় পারফরম্যান্স কতটা নিখুঁত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে যারা স্মার্টফোনে পেশাদার ছবি তোলা বা ভিডিও তোলার সুবিধা পেতে চান, তাদের কাছে Vivo X200 Ultra নিঃসন্দেহে একটি দারুণ চমক।