ব্যাঙ্কিং পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে চলতি বছরের ১লা মে থেকে কার্যকর হচ্ছে চতুর্থ দফার ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণ। এই দফায় দেশের ১১টি রাজ্যে ১৫টি RRB কে একত্রিত করা হবে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। উদ্দেশ্যে হল ‘এক রাজ্য, এক আরআরবি’ -এর নীতিকে বাস্তবায়িত করা। চলতি মাসের ৫ তারিখ কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
এই সংযুক্তিকরণের ফলে দেশের মোট আরআরবি-র সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৮-এ কমিয়ে আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর প্রশাসনিক খরচ কমানো ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতির চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবাও উন্নত করা সম্ভব হবে। আঞ্চলিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ এবং ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের কথা মাথায় রেখেই গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির একীভূতকরণ করা হচ্ছে।
এই দফায় সংযুক্তির আওতায় আসছে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, গুজরাট, জম্মু ও কাশ্মীর, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও রাজস্থান। প্রতিটি রাজ্যে একাধিক RRB একত্রিত হয়ে তৈরি হবে একটি নতুন সত্তা।
উদাহরণস্বরূপ, অন্ধ্রপ্রদেশের চারটি গ্রামীণ ব্যাঙ্ক- চৈতন্য গোদাবরী, অন্ধ্র প্রগতি, সপ্তগিরি ও অন্ধ্র প্রদেশ গ্রামীণ বিকাশ ব্যাংক—একত্রিত হয়ে তৈরি হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ গ্রামীণ ব্যাংক, যার সদর দফতর থাকবে অমরাবতীতে এবং সংযুক্ত ব্যাংকটি থাকবে ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার আওতায়।
উত্তরপ্রদেশে বারোদা ইউপি ব্যাংক, আর্যাবর্ত ব্যাংক এবং প্রথমা ইউপি গ্রামীণ ব্যাংক মিলে হবে উত্তরপ্রদেশ গ্রামীণ ব্যাংক, যার সদর দফতর হচ্ছে লখনউ এবং স্পনসর ব্যাংক বারোডা ব্যাংক।
পশ্চিমবঙ্গে তিনটি গ্রামীণ ব্যাঙ্ক- পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অধীন বঙ্গীয় গ্রামীণ বিকাশ ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্কের পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের উত্তরবঙ্গ ক্ষেত্রীয় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক আগামী মে মাস থেকে মিশে তৈরি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ গ্রামীণ ব্যাঙ্ক। সংযুক্ত ওই ব্যাঙ্ক থাকবে পিএনবি-র আওতায়। সদর দফতর হবে কলকাতা।

অন্যদিকে, আটটি রাজ্যে দুটি করে আরআরবি মিলে তৈরি হবে একটি করে নতুন ব্যাংক। বিহারে দক্ষিণ বিহার গ্রামীণ ব্যাংক এবং উত্তর বিহার গ্রামীণ ব্যাংক একত্রিত হয়ে তৈরি হবে বিহার গ্রামীণ ব্যাংক যার স্পনসর পিএনবি। গুজরাটে বারোডা গুজরাট গ্রামীণ ব্যাংক এবং সৌরাষ্ট্র গ্রামীণ ব্যাংক একীভূত হয়ে হবে গুজরাট গ্রামীণ ব্যাংক, যার সদর হবে ভাদোদরায় এবং স্পনসর ব্যাংক হবে বারোডা ব্যাংক।
জম্মু ও কাশ্মীরে জে & কে গ্রামীণ ব্যাংক ও এলাকুই দেহাতি ব্যাংক মিলে গঠিত হবে জম্মু ও কাশ্মীর গ্রামীণ ব্যাংক যার সদর দফতর থাকবে জম্মুতে এবং স্পনসর থাকবে J&K ব্যাংক।
মূলত গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র কৃষক, শ্রমিক, এবং কারিগরদের ঋণ ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৬ সালে আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক আইন অনুযায়ী রিজিওনাল রুরাল ব্যাঙ্কগুলি গঠিত হয় । ২০১৫ সালে এই আইনের পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং সংশোধনী এনে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ছাড়াও বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে RRB-তে কেন্দ্রের ৫০ শতাংশ, স্পনসর ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অংশীদারি রয়েছে।
বর্তমানে RRB-গুলো দেশের ২৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ২২ হাজারের বেশি শাখার মাধ্যমে ৭০০টিরও বেশি জেলায় পরিষেবা দিচ্ছে। ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের দিকেও RRB দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। RRB-র সংযুক্তিকরণের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল ও চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র- টাইম্স অফ ইন্ডিয়া