Thursday, February 12

বিনোদন

৯ কোটির ঋণ মামলায় কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন রাজপাল যাদব?

বলিউডের অত্যন্ত প্রতিভাবান অভিনেতা রাজপাল যাদব। ভুল্ভুলাইয়া, হাঙ্গামা, ফির হেরাফেরি ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। বি-টাউনে খ্যাতনামা এই কমেডি অভিনেতা বর্তমানে তিহাড় জেলে নিজেকে আত্মসমর্পণ করেছেন। নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি ঘটনা…
৯ কোটির ঋণ মামলায় কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন রাজপাল যাদব?
রাজপাল যাদব। ছবি- ইনস্টাগ্রাম।

তিহাড় জেলে রাজপাল যাদবের ঠাঁই হল কিভাবে?

দীর্ঘদিনের চেক বাউন্স এবং ঋণ সংক্রান্ত মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবের শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হল তিহাড় জেলে। দিল্লি হাইকোর্টে শেষ মুহূর্তে আরও কিছু সময় চেয়ে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ তারিখে তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন রাজপাল যাদব। বারংবার আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করা এবং একাধিকবার আরোপিত শর্ত ভাঙার কারণে তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে চলে আসা এই ঋণ খেলাপি মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তিনি সুযোগ পাওয়া সত্বেও আইনকে ‘বুড়োআঙুল’ দেখিয়েছেন।

এই আইনি জটিলতা শুরু হয় ২০১০ সালে। নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরির সময়। ছবির খরচ বহন করার জন্য মেসার্স মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড-এর কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ধার নেন রাজপাল যাদব। ভাগ্যের পরিহাস, ছবিটি সেসময় মুখ থুবড়ে পড়ে বক্স অফিসে। ফলে, বিপুল আর্থিক ক্ষতির সামনে পড়ে যান রাজপাল যাদব। ছবি থেকে যৎসামান্য আয় দিয়ে তিনি সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। পরবর্তীকালে, দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সঙ্গে সুদ এবং জরিমানার অঙ্ক জুড়ে গিয়ে সেই বকেয়া পরিমাণের অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকায়। এত বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা তাঁর পক্ষে পরিশোধ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে।


৯ কোটির ঋণ মামলায় কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন রাজপাল যাদব?

শুরু হয়েছিল ‘আতা পাতা লাপাতা’ তৈরির সময়

 

বকেয়া ঋণ পরিশোধ করার জন্য রাজপাল যাদব একেবারেই যে চেষ্টা করেননি এমনটাও নয়। শোনা যায়, পাওনা মেটাতে তিনি একাধিক চেকও ইস্যু করেছিলেন। তবে, বাস্তবে সেই চেকগুলি সব বাউন্স হয়ে যায়। তখন নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে ওই সংস্থা।

এরপর, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে, একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল যাদব এবং তার স্ত্রীকে বেশ কয়েকটি চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে এবং অভিনেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে একটি সেশনস কোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এই রায় বহাল রাখে, যার পর আপিলের মামলা গড়ায় দিল্লি হাইকোর্টে।


৯ কোটির ঋণ মামলায় কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন রাজপাল যাদব?

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি

 

দিল্লি হাইকোর্টে এসে রাজপাল যাদবের বারবার শর্ত ভাঙার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। বছরের পর বছর ধরে আদালত তাঁকে কিস্তিতে টাকা শোধ করার জন্য সুযোগ দেয়। কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজপাল এই দীর্ঘ সময়ে আংশিক অর্থ জমা দিয়েছেন এবং বারবার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু তিনি ধারাবাহিকতার সঙ্গে আদালত নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে যে, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা সাতটি পৃথক মামলার প্রতিটিতে তাঁকে ১ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা ছিল। সেই সঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা করা অর্থ অভিযোগকারীর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালের জুন মাসে, দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয় এই শর্তে যে তিনি আন্তরিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যাপারটা নিষ্পত্তি করবেন। পরে আদালত লক্ষ্য করে সেই প্রচেষ্টায় বাস্তবে কোনো অর্থপূর্ণ কিছু হয়নি ।


৯ কোটির ঋণ মামলায় কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন রাজপাল যাদব?

অবশেষে সশরীরে হাজিরা দিতে হল আদালতে

 

এরপরই চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারি দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবকে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার মধ্যে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে রাজপাল বারবার প্রতিশ্রুতি অমান্য করার দিকেই ঝুঁকছেন। উপায় না দেখে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাজপাল যাদব সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দেন। রামপালের আইনজীবী আদালতকে জানান যে তিনি ২৫ লক্ষ টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফ্ট জমা দিতে এবং নতুন করে ঋণ পরিশোধের সময়সূচী মেনে চলতে প্রস্তুত। কিন্তু এই প্রস্তাবে বিচারপতি আত্মসমর্পণের আদেশ প্রত্যাহার করতে রাজি হননি। আদালত জানায়, সহানুভূতি এবং শৃঙ্খলতা ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া জরুরি এবং বিচার ব্যবস্থা চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিদেরকে আলাদা সুবিধা দেওয়ার জন্য ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে না। সেইদিনই পরে, রাজপাল যাদব তিহাড় জেলে সশরীরে আত্মসমর্পণ করেন এবং ছয় মাসের সাজা ভোগ করতে শুরু করেন।

অন্যদিকে রাজপাল যাদব এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে স্বীকার করেছেন, “কী করব? আমার কাছে শোধ করার মত টাকা নেই। কোনো পথ খোলা নেই আমার সামনে।” এর সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ইন্ডাস্ট্রির জানাশোনা মানুষের কাছ থেকে এই সময় তিনি সহযোগিতা পাননি। তিনি বলেন, “এখানে যে যার নিজের মত।”


৯ কোটির ঋণ মামলায় কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন রাজপাল যাদব?

তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলিউড

 

তবে বলিউডের অনেকেই এইসময় তাঁকে সমর্থন করতে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে সোনু সুদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা আনিস বাজমি এবং গুরমিত চৌধুরি অন্যতম। সোনু সুদ রাজপাল যাদবের প্রতি তার সহমর্মিতা জানিয়ে ঘোষণা করেছেন যে তিনি তাঁকে একটি ছবিতে কাজের সুযোগ দেবেন এবং চুক্তির টাকা দিয়ে দেবেন। পাশাপাশি আনিস বাজমি এবং গুরমিত চৌধুরিও তাঁর এই কঠিন সময়ে সবাইকে সামর্থ্য মত সাহায্য করার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, “বলিউড ইন্ডাস্ট্রি একটি পরিবারের মত, আর নিজের পরিবার কখনো তাঁর সদস্যকে ফেলে দেয়না।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অক্ষয় কুমারের আসন্ন ‘ভূত বাংলা’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যাবে রাজপাল যাদবকে। তবে তার আগে এই আইনি জটিলতা থেকে বলিউডের প্রবীণ অভিনেতাকে বের করে আনতে হিন্দি বিনোদন জগৎ নড়েচড়ে বসছে।

 

তথ্যসূত্র– এনডিটিভি

আরও পড়ুন – প্রকাশ্যে আমির খানের ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর মুক্তির তারিখ

আরও পড়ুন – ‘দৃশ্যম ৩’-তে প্রকাশ রাজ, কোন চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে?

ফলো করুণ-