ফ্লাইং বাস: দিন যত গড়াচ্ছে, যাতায়াত ব্যবস্থা তত উন্নত হচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে ভবিষ্যত গণপরিবহন ব্যবস্থা। গাড়ির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি ট্র্যাফিক জ্যামকে আয়ত্তে আনার চলছে প্রয়াস। নতুন নতুন পরিকল্পনায় উঠে আসছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার সদিচ্ছা। সঠিক সময়ে মানুষ যাতে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারেন তার জন্য সড়ক পরিবহনে নিয়ে আসা হচ্ছে আমূল পরিবর্তন।
জানা যাচ্ছে, এইধরনের উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার জন্য নতুন কিছু আনার কথা ভাবছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকরি সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের গনপরিবনব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে ভারত। যার মধ্যে রয়েছে আকাশযান ভিত্তিক ‘ফ্লাইং বাস’। এই উদ্যোগের পিছনে কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য হল যানজট কমানোর সাথে অবকাঠামোগত পরিবর্তন। এ বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৩৬০ টি প্রস্তাব এসে পৌঁছেছে সরকারের কাছে।
সাম্প্রতিক এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গডকরি বলেন, দিল্লির ধৌলা কুয়ান থেকে মানসর পর্যন্ত একটি নতুন যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটি মূলত একটি পডভিত্তিক পার্সোনাল র্যাপিড ট্রানজিট (পিআরটি) সিস্টেম, যা মাটি থেকে অনেকটা উঁচু দিয়ে চলে। পিআরটি সিস্টেমে এই বাসগুলি চাকার পরিবর্তে ব্যবহার করে ম্যাগলেভ প্রযুক্তি বা চৌম্বকীয় শক্তি। সিস্টেমে ঘর্ষণবল অত্যন্ত কম হওয়ার জন্য, পডগুলি ঘণ্টায় অন্তত ২৪০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। ফলে অনেক কম সময়ে এবং যানজট ছাড়াই নিশ্চিন্তে সরাসরি গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো যায়।
সম্প্রতি এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গডকরি বলেন, প্রস্তাবিত পডভিত্তিক এই ‘ফ্লাইং বাস’ সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎচালিত এবং চার্জিং করবে ফ্লাশ চার্জিং প্রযুক্তিতে। অর্থাৎ বাস স্টপেজেই থাকবে স্বয়ংক্রিয় চার্জিং ব্যবস্থা। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ভিতরেই চার্জ হয়ে পডগুলি পরবর্তী ৪০ কিলোমিটার রাস্তা অনায়াসে অতিক্রম করতে পারবে। এছাড়া, বিমানে যেমন এয়ার হস্টেস থাকে তেমনি ‘ফ্লাইং বাসে’ও যাত্রীদের প্রয়োজনমত পরিষেবা দিতে থাকবে ‘বাস হস্টেস’। গডকরির মতে এই বাসেও ডবল ডেকার বাসের মতো পড চালু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ১৩৫ জন যাত্রী নিয়ে এই বাস যে শুধু সময়ে পৌঁছে দেবে তাই না, এর পাশাপাশি যাত্রী সুবিধার্থে থাকবে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা। মেট্রোর লাইনের মত ওভারহেড রেল সিস্টেমের মাধ্যমেই চালু করা হবে এই বাসগুলো।
অত্যাধুনিক এই ‘ফ্লাইং বাস’ বাস্তবায়িত করার জন্য ইতিমধ্যেই পাইলট প্রজেক্ট শুরু করার পরিকল্পনা চলছে। ট্রায়াল রান সফল হলে প্রথমে দিল্লি, বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ের মতো শহরগুলিতে এই পডভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হবে। পরে অন্যান্য শহরেও শুরু হবে অত্যাধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর এই যাত্রী পরিষেবা।